


ঢাকা: সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে পালাবদল হয়েছে বাংলাদেশে। ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। নতুন সরকারের আমলে কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই এবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনকাল নিয়ে মুখ খুললেন সে দেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তাঁর দাবি, ওই দেড় বছর দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক চেষ্টা হয়েছে। তাঁকে একপ্রকার অন্ধকারে রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান মহম্মদ ইউনুস। তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরানোর চেষ্টাও হয়েছিল।
সম্প্রতি বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘কালের কণ্ঠ’কে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছর বঙ্গভবনের অভিজ্ঞতা যে ভালো, তা বলা যাবে না। আমার উপর দিয়ে যে ঝড় গিয়েছে, সেরকম ঝড় সহ্য করার মতো ক্ষমতা অন্য কারও ছিল কি না, আমি জানি না। প্রধান উপদেষ্টা সংবিধান মেনে চলেননি। তাঁর বিদেশ সফর হোক বা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়—কোনো বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা হয়নি। অথচ সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশে সফরে গেলে সেখানে কী আলোচনা হল, কোনো চুক্তি হল কি না, তা জানানো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। গত দেড় বছরে ১৪-১৫ বার বিদেশ সফর করলেও তিনি একবারও কিছুই জানাননি। এমনকি আমার সঙ্গে দেখাও করেননি।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও ইউনুসের তৎকালীন প্রশাসন তাঁকে কিছুই জানায়নি বলে দাবি করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। মহম্মদ ইউনুসের আমলে তাঁকে কার্যত ‘প্রাসাদে বন্দি’র মতো রাখা হয়েছিল বলেও ক্ষোভ উগড়ে দেন সাহাবুদ্দিন। ওই পর্বে কসোভো ও কাতার সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও তাতে বাধা দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। তাঁকে সরানোর ষড়যন্ত্র নিয়েও ইউনুস সরকারের তুমুল সমালোচনা করেন সাহাবুদ্দিন। বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে। আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। যে কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। বিশেষ করে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে আমাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমি বলেছি, আমার রক্ত ঝরলেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব। এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে অসাংবিধানিক উপায়ে আমার জায়গায় বসানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেই অসাংবিধানিক কাজে রাজি হইনি। ফলে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।’ সেই দুঃসময়ে বিএনপি তাঁর পাশে ছিল বলেও জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছিল যে, কোনো অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি অপসারণের পক্ষে তারা নয়। আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা ছিল ১০০ শতাংশ। এ ছাড়া তিন বাহিনীও আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে।’