


ওয়াশিংটন: ফের ভোলবদল ট্রাম্পের। একদিন আগেই ভারত ও চীন সহ একাধিক দেশকে নরকের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার নিজের মন্তব্য থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন ভারতকে। জানালেন, তাঁর ‘খুব ভালো বন্ধু’ ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত নাগরকিত্ব আইন ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরেই এই আইনে বদল চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এখনও বিষয়টি নিয়ে নিষ্পত্তি হয়নি। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট নিজের ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেছেন, সেখানে ভারত, চীন সহ অন্য দেশগুলিকে নরককুণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
কী করেছেন ডন? রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের পডকাস্টের কথোপকথন লিখিত আকারে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এখানে একটি শিশু জন্মালে সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। এরপরে তাঁরা চীন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনো নরককুণ্ড থেকে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।’ এতেই ক্ষান্ত হননি ট্রাম্প। চীন ও ভারতীয়দের ‘ল্যাপটপ হাতে গুন্ডা’ বলেও বর্ণনা করেন তিনি। ডনের দাবি, ভারত ও চীনের অভিবাসীরা আমেরিকার পতাকাকে পদদলিত করে। ‘ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সমস্ত মাফিয়া পরিবার মিলে যা করেছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি এরা করেছে। আমার মতে, ওরা আসলে ল্যাপটপ হাতে গুন্ডা। ওরা আমাদের লুটে নিয়েছে। আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো ব্যবহার করে।’
এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, তাঁরা এসংক্রান্ত কিছু রিপোর্ট দেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে ইরানও। হায়দরাবাদে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, ‘ভারত ও চীন সভ্যতাকে লালন করেছে।’ ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। তার মধ্যেই এবার ভোল বদলে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ট্রাম্প।