


ওয়াশিংটন, ইসলামাবাদ ও দুবাই: দু’সপ্তাহের সংঘর্ষ বিরতি শেষের ঠিক আগে এসেছে ঘোষণা। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্ধিত করা হয়েছে। তা করা হয়েছে পাকিস্তানের অনুরোধে। যদিও আমেরিকা ও পাকিস্তানের এই ভাষ্যে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান। সংঘর্ষ বিরতির এই মেয়াদ বৃদ্ধিতে সরকারি কোনো স্বীকৃতিও আসেনি তেহরানের তরফে। বরং হরমুজ প্রণালীতে বুধবার নতুন করে তিনটি জাহাজকে নিশানা বানিয়েছে ইরানি সেনা। তার মধ্যে একটি আবার গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে আসছিল বলে খবর। লিবিয়ার পতাকাবাহী এই কন্টেনার জাহাজটির নেভিগেশনাল স্টেটাস বর্তমানে ‘স্টপড’ দেখাচ্ছে। জাহাজটি এখন ইরানের বাহিনীর হেপাজতে রয়েছে বলে সেদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, কূটনৈতিক সূত্রে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজে মার্কিন বাহিনী অবরোধ না তুললে শান্তি আলোচনার প্রশ্নই উঠছে না। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি সুর চড়িয়ে বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর এই অবরোধ যুদ্ধেরই শামিল। এর অর্থই হল সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করছে আমেরিকা। ফলে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা বিশ বাঁও জলে চলে গিয়েছে। উলটে, ইরানি সেনা একইদিনে তিনটি জাহাজকে নিশানা বানানোয় জ্বালানি সরবরাহে সংকটের মেঘ আরও বাড়বে বৈ কমবে না।
ট্রাম্প সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্ধিত করায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছে পাকিস্তানি নেতৃত্ব। ইসলামাবাদের অনুরোধ কেন মেনে নেওয়া হয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে তার যুক্তিও দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প যা বলেছেন তার মোদ্দা অর্থ দাঁড়ায়, ইরানে এখন কোনো সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। কারণ নতুন নেতা মোজতবা খামেনেই কোথায় কেউ জানে না। ফলে বিভিন্ন নেতার ভিন্ন ভিন্ন মতামতের জেরে তেহরানের অবস্থান বিভাজিত হয়ে পড়েছে। তাঁদের একমতে পৌঁছে শান্তি বৈঠকে অংশ নিতে সময় দেওয়ার জন্যই অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ। এই অবস্থায় প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকও স্থগিত হয়ে গিয়েছে। ইরানের কোনো প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে আসছে না। উলটো দিকে হোয়াইট হাউস সূত্রেও জানানো হয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সের নেতৃত্বে আমেরিকার প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ যাচ্ছে না। আর ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ বর্ধিত হচ্ছে ঠিকই, তবে হরমুজে ইরানের বন্দরগুলিকে অবরোধের সিদ্ধান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী সরছে না। আমেরিকা হরমুজ অবরোধ জারি রাখায় ইরানও এদিন পালটা হামলা চালিয়েছে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি জাহাজকে নিশানা বানিয়েছে। সেদেশের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার সকালে প্রথম হামলাটি চলে একটি কন্টেনার জাহাজে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার। দ্বিতীয় জাহাজটি গুজরাতে আসছিল বলে খবর। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও একটি জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে বলে ইরানের সংবাদ মাধ্যম দাবি করে। কারও হতাহত হওয়ার খবর মেলেনি।