Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যত্রতত্র পার্কিং ফি আদায় নিয়ে এসডিও অফিস এমপ্লয়িজ সোসাইটি প্রশ্নের মুখে

যত্রতত্র পার্কিং ফি আদায় নিয়ে এসডিও অফিস এমপ্লয়িজ সোসাইটি প্রশ্নের মুখে
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গিয়ে পার্কিংয়ের টাকা তোলার অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার রানাঘাট মহকুমা শাসকের দপ্তরের জন্য নির্ধারিত পার্কিং জোন থেকে বহু দূরে গাড়ি, বাইক এবং সাইকেলের থেকে পার্কিং চার্জ আদায়ের ঘটনা নজরে এসেছে। ইতিউতি পার্কিং নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে গোটা অফিস চত্বরজুড়েই ফি আদায় আদৌ কি বৈধ? প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী মানুষরা।  
Advertisement
প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে হাজার হাজার মানুষকে আসতে হয় রানাঘাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে। এই এসডিও অফিস লাগোয়া চত্বরে আবার রয়েছে মহকুমা আদালতও। ফলে বাইক অথবা ছোট গাড়ির ভিড় নেহাত কম হয় না। তাই বছর দশেক আগে সাইকেল, বাইক রাখার জন্য এসডিও বিল্ডিংয়ের ঠিক সামনেই শেড তৈরি করে ‘ফি পার্কিং জোন’ চালু করে প্রশাসন। ‹এসডিও অফিস এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড› বর্তমানে এই পার্কিং জোন চালায়। সাইকেলের জন্য ৫ টাকা এবং বাইকের জন্য ১০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু বলাই বাহুল্য, যত সংখ্যক সাইকেল অথবা বাইক প্রতিদিন এসডিও অফিসে আসে তার তুলনায় অপরিসর সেই পার্কিং জোন। ফলে ফাঁকতালে অনেকেই বাইক, স্কুটার ইতিউতি দাঁড় করিয়ে চলে যায়। বিতর্ক তৈরি হয়েছে, নির্ধারিত পার্কিং জোন থেকে ঢের দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সমস্ত গাড়ি থেকেও পার্কিং ফি আদায় নিয়ে। মঙ্গলবার একটি দৃশ্য দেখা গিয়েছে, রানাঘাট মহকুমা শাসক বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় গেটের আশেপাশে, ট্রেজারি থেকে এসডিও অফিসের দ্বিতীয় গেটে যাওয়ার সরু এক ফালি রাস্তার আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাইক, সাইকেল অথবা স্কুটারে ইচ্ছেমতো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে পার্কিং স্লিপ। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে নির্দিষ্ট পার্কিং জোনের বাইরে গিয়ে টাকা তোলার এক্তিয়ার কি রয়েছে ওই সংস্থার। এসডিও অফিসে ব্যক্তিগত কাজে আসা অরুণ বিশ্বাস বলেন, পার্কিং জনে বাইক রাখার জায়গা ছিল না। তাই আমি খানিকটা পিছন দিকে এনে গাড়িটা রেখেছিলাম। তাও আমার বাইক থেকে ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন হল, যত্রতত্র পার্কিং ঠেকাতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতেই পারে। কিন্তু যত্রতত্র পার্কিং স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে আসা কি যায়? আমার মনে হয়, পার্কিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে নির্দিষ্ট একটি অংশে পার্কিং তুই আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়। তাহলে তার চেয়ে ঢের দূরে কী করে গিয়ে তারা টাকা তুলছেন সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। 
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট সংগঠনের এক সদস্যের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৫ সাল থেকেই পার্কিংয়ের টাকা আদায়ের দায়িত্ব রয়েছে তাদের। নির্দিষ্ট কোনও ক্ষেত্রে নয়, গোটা এসডিও অফিস চত্বর থেকেই নাকি তাদের পার্কিং ফি আদায়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তার সপক্ষে বৈধ কোনও নথি অবশ্য তাঁরা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল রানাঘাটের মহকুমা শাসক ভরত সিংকেও। তিনি বলেন, কী হচ্ছে জানি না। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
সম্পর্কিত সংবাদ