সংবাদদাতা, সিউড়ি: আহমদপুর স্টেশনে দিনের পর দিন যাত্রী সংখ্যা বেড়ে চললেও পরিষেবার মান ক্রমশ নিম্নমুখী। অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা যেমন, কীর্ণাহার, লাভপুর, আহমদপুর, পুরন্দরপুর, সিউড়ি থেকে মানুষ ট্রেন ধরতে আসেন। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগকারী রেলপথের ঠিক মধ্যিখানে অবস্থিত আহমদপুর। একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন যেমন, গণদেবতা এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি, জয়নগর, শহিদ, রামপুরহাট-হাওড়া, কবিগুরু, উত্তরবঙ্গ ইত্যাদি ট্রেনগুলি এই স্টেশনে দাঁড়ায়। কিন্তু দূরপাল্লার ট্রেনগুলির কোন কামরা প্ল্যাটফর্মের কোন জায়গায় দাঁড়াবে তার কোনও নির্দেশিকা প্ল্যাটফর্মে নেই। ফলে যাত্রীদের অযথা ছুটোছুটি করতে হয় নির্দিষ্ট কামরার খোঁজে। এমনকী ট্রেনের সময় সারণীর জন্য আধুনিক ডিজিটাল ডিসল্পে বোর্ড পর্যন্ত নেই। তার বদলে আদ্দিকালের ফেক্সে ছাপানো টাইম টেবিল ঝুলছে টিকিট কাউন্টারের সামনে। করোনার সময়ে বেশকিছু ট্রেনের স্টপেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেইসব ট্রেনের স্টপেজ আজও চালু হয়নি। প্রবীণ যাত্রী ও প্রতিবন্ধীদের প্ল্যাটফর্ম পারাপারের জন্য এস্কালেটর বসানো হয়নি প্ল্যাটফর্মে। এলাকার বাসিন্দা এবং ট্রেনে যাত্রীদের একাংশের দাবি, ইদানীং আহমদপুরে গড়ে উঠেছে একাধিক কলকারখানা। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ এই স্টেশন দিয়েই নিত্যদিন যাতায়াত করেন। অথচ যাত্রীদের সুবিধার্থে কোনও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি এই স্টেশনে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা শিল্পপতি সঞ্জীব মজুমদার বলেন, অমৃত ভারত প্রকল্পে জেলার অনেকগুলি স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়েছে। এই স্টেশনটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে দূরপাল্লার ট্রেন স্টপেজ থাকলেও টাইম টেবিল বা কামরা ডিসপ্লে বোর্ড নেই, এস্কালেটর নেই। কাটোয়া রুটের ট্রেন ধরতে গেলে হাফ কিলোমিটার ঘুরতে হয় মানুষকে। সেখানে টিকিট কাউন্টার না থাকায় আবার প্রধান স্টেশনে টিকিট কাটতে আসতে হয় যাত্রীদের। এতে মারাত্মক দুর্ভোগ হয় যাত্রীদের। এই স্টেশনের পরিষেবার দিকে রেলের বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। স্থানীয় বাসিন্দা তথা অধ্যাপক সুব্রত সাহা, ব্যবসায়ী চিরঞ্জীব ঘোষ বলেন, এলাকার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ব্যবসা বা অন্যান্য পেশার কারণে এই স্টেশনের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াত করে থাকেন। যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করা দরকার।



