নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিদ্ধান্তের পর কেটে গিয়েছে কয়েক মাস। এখনও দিল্লি যাওয়া হয়ে ওঠেনি রাজ্যের যৌথ প্রতিনিধি দলের! সর্বসম্মতভাবে ঠিক হয়েছিল, রাজ্যে নদী ভাঙন রোধে মোদি সরকারের কাছে ডেপুটেশন দিতে দিল্লি যাবে রাজ্যের যৌথ প্রতিনিধি দল। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বিধায়ক থাকবেন সেই প্রতিনিধি দলে। নদী ভাঙন রোধের ক্ষেত্রে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে অনেক দিন ধরেই সরব রাজ্যের শাসক দল। এই আবহে বিধানসভা অধিবেশনে প্রস্তাব আসে, মানুষের স্বার্থে তৃণমূল-বিজেপি বিধায়কদের যৌথ প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে ভাঙন সমস্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুক। গত ডিসেম্বরে বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে বিজেপি সম্মতি দিয়েছিল বলেই জানিয়েছেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি আরও জানান, প্রস্তাব গ্রহণের পরে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে তিনি নিজে ফোন করে তাঁদের দলের তরফে প্রতিনিধি দলে কারা এবং কতজন থাকবেন, সে বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু দিল্লি যাওয়ার ব্যাপারে দলের সবুজ সঙ্কেত মেলেনি বলেই ওই বিজেপি বিধায়ক শোভনদেববাবুকে জানিয়েছেন, দাবি পরিষদীয় মন্ত্রীর।
Advertisement
বুধবার বিধানসভায় সেচ বিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্বে ইন্দে-ভুটান রিভার কমিশন ও রাজ্যের যৌথ প্রতিনিধিদল পাঠানো নিয়ে কী ব্যবস্থা হল, জানতে চান আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। জবাবে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানান, ভুটান থেকে নেমে আসা ৭৬টি নদীর জল প্রতি বছর উত্তরবঙ্গকে ভাসিয়ে দিয়ে যায়। ফলে ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন তৈরি না হলে বাংলার মানুষ এই বিপদ থেকে রক্ষা পাবে না। সব জেনেও কেন্দ্র নিশ্চুপ। তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রের কাছে যৌথ প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিরোধীদের বলা হয়েছে। আমি আরও একবার বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষ এবং পরিষদীয় মন্ত্রীকে বিষয়টি দেখতে অনুরোধ করব।’ মানসবাবুর কথার রেশ ধরেই এদিন অধিবেশনে বিরোধী দলনেতার অনুপস্থিতিতে শঙ্করবাবুর কাছে এ বিষয়ে জানতে চান অধ্যক্ষ। তখন বিধানসভায় পরিষদীয় মন্ত্রী জানান, সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ হওয়ার পরেও বিজেপি যেতে অস্বীকার করেছে।
সেচমন্ত্রীর দাবি, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাকে বন্যা নিয়ন্ত্রণে এক টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। তাই যৌথ প্রতিনিধি দলের দিল্লি সফর রাজ্যের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভাঙনের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে রাজ্য নিজের সাধ্যমতো কাজ করছে । ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেছে রাজ্য। এই প্রকল্পে চন্দ্রকোনা ১, ২ এবং কেশপুর ব্লকের কিছু এলাকাকেও যুক্ত করা হবে। মানসবাবু আরও জানান, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের এলাকার কিছু বাসিন্দা জমি সংক্রান্ত ইস্যুতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মিছিলের ডাক দিয়েছেন। তবে কোনওভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।
সেচমন্ত্রীর দাবি, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাকে বন্যা নিয়ন্ত্রণে এক টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। তাই যৌথ প্রতিনিধি দলের দিল্লি সফর রাজ্যের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভাঙনের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে রাজ্য নিজের সাধ্যমতো কাজ করছে । ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেছে রাজ্য। এই প্রকল্পে চন্দ্রকোনা ১, ২ এবং কেশপুর ব্লকের কিছু এলাকাকেও যুক্ত করা হবে। মানসবাবু আরও জানান, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের এলাকার কিছু বাসিন্দা জমি সংক্রান্ত ইস্যুতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মিছিলের ডাক দিয়েছেন। তবে কোনওভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।



