নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীমৃত্যুর ঘটনায় বর্ধমানের নবাবহাটের কাছে গড় এলাকার একটি নার্সিংহোমে উত্তেজনা ছড়াল। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলায় রোগীর পরিবারের লোকজনদের একটি ঘরে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এক মহিলাকেও মারধর করা হয় বলে পরিবারের লোকজনদের দাবি। তার প্রতিবাদে পরিবারের লোকজন মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান। উত্তেজনা থাকায় বর্ধমান থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, এক দালাল ১২দিন আগে ২৮ বছরের রোগীকে ওই নার্সিংহোমে ভর্তির পরামর্শ দেয়। ওই দালাল পরিবারের লোকজনদের পরিচিত হওয়ায় বিশ্বাস করে রোগীকে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। ওই যুবকের লিভারের সমস্যা ছিল। পরিবারের সদস্য পূজা চৌধুরী বলেন, ১২দিনে প্রায় দু’লক্ষ টাকা বিল করা হয়। দু’দিন আগেও ও কথা বলছিল। খেতেও পারছিল। হঠাৎ করেই এদিন দুপুরে নার্সিংহোমের পক্ষ থেকে রোগী মারা গিয়েছে বলে জানানো হয়। ভুল চিকিৎসার জন্যই এই পরিণতি হয়েছে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এনিয়ে মন্তব্য করতে চায়নি। এক মালিক বলেন, বাইরে রয়েছি। এনিয়ে কিছু বলতে পারব না।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রোগীর বাড়ি কাটোয়া থানা এলাকায়। তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। এই নার্সিংহোমটি এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, নার্সিংহোমে ওষুধের দাম অনেক বেশি নিচ্ছিল। সেকারণে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে এনে দেওয়া হয়। সেটাতে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের গোঁসা হয়। কেন বাইরে থেকে ওষুধ নিয়ে আসা হচ্ছে, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলে। মোটা অঙ্কের টাকা বিল নেওয়ার পরও তারা ঠিকমতো চিকিৎসা করেনি।
পরিবারের এক সদস্য বলেন, চিকিৎসার নামে প্রতরণা করা হয়েছে। ১২দিনে কীভাবে দু’লক্ষ টাকার বিল হল তার হিসেব তারা দেয়নি। প্রতিবাদ করার জন্য নার্সিংহোমের লোকজন পরিবারের সদস্যদের ঘরে আটকে রেখে মারধর করে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, বারবার ওই নার্সিংহোমে কেন চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ উঠছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেখানে উপযুক্ত পরিকাঠামো রয়েছে কি না সেটাও খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। এভাবে গরিব পরিবারগুলির সঙ্গে প্রতরণা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ধমান থানার পুলিস জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।