নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: এসআইআর নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে উত্তর শহরতলিতে। দমদমের পর এবার বরানগরের এক যুব তৃণমূল নেতাকে বিএলও করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কমিশনে চিঠি দিল বিজেপি। শুধু তাই নয়, পানিহাটির একটি ওয়ার্ডে ২৭০ জন ভুয়ো ভোটার থাকার দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূলের দাবি, বিএলও তালিকা ও ভোটার তালিকা তৈরি করে কমিশন। তারাই এর উত্তর দিতে পারবে।
দক্ষিণ বরানগর যুব তৃণমূলের সভাপতি সুজিত ঘোষ ওরফে জন্টি। তিনি বরানগরের বি কে সি কলেজের গ্রন্থাগারিক। বরানগরের ৪৯ নম্বর পার্টের বিএলও হয়েছেন তিনি। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি সৌমেন মিস্ত্রি বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকে বিএলও বানানো হয়েছে। এমন বহু অস্থায়ী কর্মীকে বিএলওর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা তৃণমূলের সক্রিয় নেতা-কর্মী। এদের দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে।’ সুজিত ঘোষ বলেন, ‘আমাকে কয়েক মাস আগে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর যুব তৃণমূলের দায়িত্ব পেয়েছি পুজোর আগে। বিরোধী দলের বহু সমর্থকও বিএলও আছেন। দল দেখে বিএলও ঠিক করা হলে কমিশন কাজ করানোর লোক পাবে না।’
অন্যদিকে, পানিহাটি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাতটি পার্টে প্রায় ২৭০ জন ভুয়ো ভোটার রয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, এর মধ্যে মারা গিয়েছে প্রায় ৬০ জন। বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘গোটা পানিহাটিতে কয়েক হাজার ভুয়ো ভোটার রয়েছে। আমরা সমস্ত তথ্য বের করেছি। কমিশনে অভিযোগ করব।’ তৃণমূল বলছে, ভোটার তালিকা যে তৃণমূল তৈরি করে না, সেটা ভুলে গিয়েছে বিজেপি। তবে বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে আন্দোলন হবে।
অন্যদিকে, রবিবার বিকেলে বরানগর ও কামারহাটি বিধানসভা এলাকায় এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের প্রস্তুতি বৈঠক হয়। দু’টি পৃথক কর্মসূচতে সাংসদ সৌগত রায়, বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র, যুব তৃণমূল সভাপতি দেবরাজ চক্রবর্তী ছাড়াও দুই পুরসভার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার, দলীয় পদাধিকারী, বিএলএ দায়িত্বপ্রাপ্তরা হাজির ছিলেন। আজ, সোমবার বিকেলে এসআইআরের বিরোধিতায় কামারহাটি ও বরানগর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল যৌথভাবে প্রতিবাদ মিছিল করে ডানলপে প্রতিবাদ সভা করবে বলে জানা গিয়েছে।