সংবাদদাতা, বনগাঁ: সম্পত্তির লোভে প্রতিবেশীকে শাবল দিয়ে পিটিয়ে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল যুবকের। নাম উত্তম ঢালী। সোমবার বনগাঁ আদালতের এডিজে ১ কোর্টের বিচারপতি রাজীব সাহা এই নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, দোষীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেছেন বিচারক। ২০২৪ সালের ২৩ মে সকালে ঘটনাটি ঘটেছিল গাইঘাটা থানার ঝিকরা গ্রামে। গত শুক্রবার অভিযুক্ত উত্তম ঢালীকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। সোমবার দোষীর সাজা ঘোষণা হয়।
ঘটনার দিন প্রৌঢ় ভরত সরকারের বাড়িতে আচমকা চড়াও হয় প্রতিবেশী যুবক উত্তম ঢালী। শাবল দিয়ে ভরতকে মারধর শুরু করে। মাথায় শাবলের আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রৌঢ়। এরপর মাথায় শাবল গেঁথে দেয় উত্তম। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ভরতকে বাঁচাতে এলে প্রতিবেশী চারজনকে শাবল দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে যুবক। ঘটনার পর সে পালিয়ে যায়। মৃত ভরতের মেয়ে সুস্মিতা দাস গাইঘাটা থানায় উত্তমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এই ঘটনায় মোট ২৪ জন সাক্ষী দিয়েছেন আদালতে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভরতের ছেলে নেই। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তাঁর সম্পত্তির উপর নজর দিয়েছিল উত্তম। মাঝেমধ্যেই তাঁকে হুমকি দিত বলে জানা গিয়েছে। কেউ না থাকায় তাঁকে মেরে ফেললেও কিছু করতে পারবে না বলে উত্তম হুমকি দিয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। এদিন দোষীর সাজা ঘোষণা হওয়ায় খুশি পরিবারের লোকেরা। মৃতের মেয়ে সুস্মিতা দাস বলেন, সম্পত্তির জন্য বাবার সঙ্গে ঝামেলা করত উত্তম। ঘটনার দিন হঠাৎই বাবাকে শাবল দিয়ে মেরে খুন করে। এই রায়ে আমরা খুশি। মৃতার বউদি বিশাখা সরকার বলেন, দেওরকে মারছে দেখে ঠেকাতে গিয়েছিলাম। উত্তম আমাকেও শাবল দিয়ে মারধর করেছিল। সরকারি পক্ষের বিশেষ আইনজীবী সঞ্জয় দাস বলেন, উত্তম ঢালী প্রতিবেশী ভরতের সম্পত্তির লোভে তাঁকে শাবল দিয়ে মেরে খুন করেছিল। এই ঘটনায় ২৪ জন সাক্ষী দিয়েছেন। এদিন বিচারক দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।