সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মৃতদেহ উদ্ধারের দু’দিন পরও মুরারইয়ের বাহাদুরপুর গ্রামের যুবক খুনের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। অন্যদিকে এর আগেও একই কায়দায় এই গ্রামেই শুকিয়ে যাওয়া ক্যানেলে অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। সেই খুনের ঘটনারও কোনও কিনারা হয়নি। মেরে ফেলার পর পরিচয় গোপন করতে কখনও আগুন ধরিয়ে দেওয়া, কখনও আবার অ্যাসিড ঢেলে মুখমণ্ডল বিকৃতি করে দেওয়ার ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁরা বলেন, খুনের ধরন প্রায় একই।
বাহাদুরপুর ও লাগোয়া তপনা গ্রামের মধ্য দিয়ে চলে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা। সেই রাস্তার ধারে দু’টি জমির পর বয়ে গিয়েছে সেচ ক্যানেল। বর্ষা ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় তা শুকনো থাকে। কয়েকমাস আগে স্থানীয়রা গোরু চরাতে এসে দেখেন সেই ক্যানেলের মধ্যে একটি পোড়া দেহ পড়ে রয়েছে। দেহে মাংসপিণ্ড বলতে একটি হাতের কব্জি থেকে আঙুল ও একটি পায়ের পাতা ও আঙুল। হাত ও পায়ের আঙুলে লাল নেলপালিস দেখে পুলিস নিশ্চিত হয় দেহটি কোনও মহিলার। যদিও মাঝে বেশ কয়েকটা মাস কেটে গেলেও খুনিকে ধরা তো দূর, এখনও ওই মহিলার পরিচয়ই জানতে পারেনি পুলিস।
এরই মধ্যে শনিবার সেই ক্যানেল থেকে কিছুটা দূরে দু’দিন ধরে নিখোঁজ থাকা নূর ইসলাম শেখ ওরফে সাদ্দাম নামে এক যুবকের ফুলেফেঁপে ওঠা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহটি ঘাস ও লতাপাতা দিয়ে ঢাকা ছিল মৃতের গলায় ব্লেট জড়ানো ও বাঁ হাত ভাঙা ছিল। পরিচয় গোপন করতে মুখমণ্ডলে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
গ্রামবাসীরা বলেন, এর আগে ওই অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাকে খুন করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রেও যুবককে মেরে ফেলার পর গোটা মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে। দু’টি খুনের ধরন প্রায় একই। স্বভাবতই আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের ধারণা খুনি গ্রামেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এই গ্রামের বাসিন্দা তথা কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি রাহুল শেখ বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বাসন্তী পুজো উপলক্ষ্যে গ্রামে মেলা বসেছে। আগে তপনা সহ আশেপাশের গ্রামের মানুষ মেলা দেখতে আসতেন। কিন্তু, পর পর এক খুনের ঘটনায় আতঙ্কে অনেকেই আসছেন না। সন্ধ্যার পর খুব কম সংখ্যক মানুষকে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে।
এদিকে খুন হওয়া যুবকের ভাই আলি আসগর শেখ বলেন, দু’দিন পেরিয়ে গেলেও দাদা খুনের ঘটনায় কাউকে ধরতে পারেনি পুলিস। তবে এদিন দুপুরে পুলিস ফোন করে জানায় তদন্তের জন্য আমাদের বাড়িতে আসবে। তিনি বলেন, পুলিস সঠিক তদন্ত করলে ঠিক আছে। না হলে হাইকোর্টে সিবিআই তদন্ত চেয়ে আবেদন জানাব। দাদাকে যারা নৃশংসভাবে খুন করল তাঁদের শাস্তি দিতেই হবে।