সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অভাবের সংসারে স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু তা পূরণ করা কঠিন। তবে ইচ্ছা আর সঠিক সঞ্চয় যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। প্রমাণ করলেন তারাপীঠের এক যুবক। কয়েক বছর ধরে মাটির ভাঁড়ে জমানো ৫-১০ টাকার কয়েন ভর্তি বস্তা নিয়ে শোরুমে গিয়ে কিনে ফেললেন স্বপ্নের মোটরবাইক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক শ্রীনাথ লেট। বাড়ি তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন ফুলিডাঙা এলাকায়। তারাপীঠের একটি পুজোর সামগ্রী বিক্রির দোকানের কর্মচারী। সামান্য আয়ে সংসার চলে। তাঁর শখ জেগেছিল নিজস্ব মোটরবাইক কেনার। কিন্তু বাধ সেজেছিল অভাব। এককালীন টাকা জোগাড় করা কঠিন বুঝেই বিকল্প পথ বেছে নেন। প্রতিদিন কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ৫-১০ টাকার কয়েন একের পর এক ভাঁড়ে জমাতে থাকেন। শ্রীনাথ ভাঁড়গুলি ভাঙতেই চোখ কপালে ওঠে। জমানো কয়েন গুনে দাঁড়ায় দেড় লাখ টাকারও বেশি। বৃহস্পতিবার বস্তায় ভরে কয়েনগুলি নিয়ে পৌঁছে যান মল্লারপুরের বাইকের শোরুমে।
শোরুমের কর্মীরা অবাক হয়ে যান একের পর এক কয়েনের বস্তা নামতে দেখে। বাইকের দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। শোরুমের কর্মীরা একে একে বস্তা খুলে কয়েন গুনতে শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে গণনা পর্ব।
শোরুমের মালিক তুষারকান্তি মণ্ডল বলেন, কিছুদিন আগে শ্রীনাথ কয়েন দিয়ে বাইক কেনার কথা বলেছিলেন। প্রথমে একটু ইতস্তত হলেও ওঁর মুখ চেয়ে না করতে পারিনি। কয়েনগুলো গুনে হাতে বাইকের কাগজ তুলে দিয়েছি। নম্বর পেল্ট হয়ে যাওয়ার পর বাইক দেওয়া হবে। পেপার হাতে পেতেই শ্রীনাথের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলেন, ভেবেছিলাম অভাবের কারণে স্বপ্নটা অধরাই থেকে যাবে। কিন্তু চেষ্টার খামতি রাখিনি। নিজের জমানো টাকায় বাইক কিনতে পেরে আনন্দ পাচ্ছি। • নিজস্ব চিত্র