Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফেসবুকে সস্তায় গাড়ি কেনার লোভনীয় প্রস্তাব, প্রতারিত সামশেরগঞ্জের যুবক, ধৃত ৬

ফেসবুকে আকর্ষণীয় দামে নামী কোম্পানির গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন। সেই লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সর্বস্ব খোয়াতে বসেছিলেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা নেতাজুল শেখ।

ফেসবুকে সস্তায় গাড়ি কেনার লোভনীয় প্রস্তাব,  প্রতারিত সামশেরগঞ্জের যুবক, ধৃত ৬
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ফেসবুকে আকর্ষণীয় দামে নামী কোম্পানির গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন। সেই লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সর্বস্ব খোয়াতে বসেছিলেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা নেতাজুল শেখ। তবে বারাসত জেলা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করায় বড়সড় প্রতারণা রুখে দেওয়া গিয়েছে। এই চক্রের মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে প্রতারিত অর্থের ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বোলেরো গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে সামশেরগঞ্জের নেতাজুল শেখের। বিজ্ঞাপনে কম দামে গাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। মাত্র আড়াই লক্ষ টাকায় বোলেরো গাড়ি! সেই বিজ্ঞাপনে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে নীলগঞ্জ বাজারে আসতে বলা হয়। সেখান থেকে অভিযুক্তরা তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। গাড়ি দেখানো ও কাগজপত্র হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরই চম্পট দেয় প্রতারকরা। প্রতারিত নেতাজুল শেখ দত্তপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেতেই সক্রিয় হয় পুলিশ। মোবাইল ট্র্যাকিং ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বাড়ি দত্তপুকুরের নীলগঞ্জে। তাদের শুক্রবার বারাসত আদালতে পাঠিয়ে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার পর আরও দু’জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারা এখন পুলিশি হেপাজতে রয়েছে। ধৃত সাহদত মণ্ডল, নেমাতুল্লা খান, সুজিত বিশ্বাস ও বিদ্যুৎ বিশ্বাসদের বাড়ি দত্তপুকুরে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অশোকনগরের বাসিন্দা শেখ সলমান ও মাসাদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করাই ছিল এই চক্রের মূল কৌশল। অন্য জেলায় এদের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যেকের নামেই এই ধরনের প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। এ নিয়ে বারাসতের এসডিপিও আজিঙ্কে বিদ্যাগর আনন্ত বলেন, গোটা বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অসাধু মানুষদের বিজ্ঞাপন দেখে অতি উৎসাহী হওয়া ঠিক নয়। প্রত্যেকেরই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ