নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এআই সম্মেলন চলছে পুরোদমে। রয়েছেন দেশবিদেশের অতিথি-অভ্যাগতরা। আচমকাই ছন্দপতন। শুক্রবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমের ৫ নম্বর হলঘরের সামনে প্রবল হট্টগোল। কী হয়েছে বোঝার জন্য প্রদর্শনী ছেড়ে দৌড়ে এলেন অতিথি-অভ্যাগত, অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। দেখতে পেলেন, জামা খুলে হাওয়ায় ওড়াতে ওড়াতে মূল হলঘরের দিকে ছুটে চলেছেন জনাদশেক তরুণের একটি দল। মুখে মুহুর্মুহু স্লোগান, ‘মোদি ইজ কম্প্রোমাইজড’। খবর পেয়ে ছুটে আসেন পুলিশ, সিআরপিএফ জওয়ান এবং নিরাপত্তা কর্মীরা। ততক্ষণে এআই সামিটের ব্যাকড্রপকে পিছনে রেখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে টি-শার্ট মেলে ধরে কার্যত ফটোশ্যুট শুরু করে দিয়েছে ওই দলটি। সেই টি-শার্টে ছাপানো রয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি। সঙ্গে লেখা বিক্ষোভকারীদের স্লোগানও। ওই বিক্ষোভরত যুবকরা প্রত্যেকে যুব কংগ্রেস কর্মী। এই ঘটনায় প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ কংগ্রেস। প্রশ্ন উঠেছে অমিত শাহের দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও।
গত সোমবার দিল্লিতে এআই সামিট শুরুর দিন থেকেই বিতর্কে জড়িয়েছে এই সম্মেলন। কখনো অকেজো ওয়াই-ফাইয়ের জেরে ডিজিটাল পেমেন্ট সহ নরেন্দ্র মোদির ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মুখ থুবড়ে পড়া। আবার কখনো চীনা রোবোডগকে দেশীয় উদ্ভাবন হিসাবে দাবি করে শাস্তির মুখে পড়া যোগীরাজ্যের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোদির মুখ পোড়ানো। কিন্তু এদিন এআই সম্মেলনে যে বিক্ষোভের ছবি দেখা গেল, তাকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। যুব কংগ্রেসের এহেন বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় রাহুল গান্ধীর দলকে তুলোধনা করেছেন কেন্দ্রের শীর্ষ নেতামন্ত্রীরা। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়েছে। ঈর্ষাপরায়ণ হয়েই এমন ঘটিয়েছে তারা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক আরজেডিও এই ঘটনার বিরোধিতা করেছে। দলের রাজ্যসভা সাংসদ মনোজ ঝা জানিয়েছেন, অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু তা নিয়ে সঠিক স্থানে ঠিকমতো বিক্ষোভ দেখানো উচিত। এমন একটা অনুষ্ঠানে, যেখানে বাইরের দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন, সেখানে এমন কর্মসূচি কাম্য নয়। যদিও যুব কংগ্রেস জানিয়েছে, বন্ধ দরজার আড়ালে প্রতিবাদ হয় না। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে জনসমক্ষেই প্রতিবাদ হয়। তাই এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ‘ভারত বিরোধী’ বলা সাজে না।
যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওই বিক্ষোভের বিরোধিতায় সরব হন সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা। অনেকে বিক্ষোভকারীদের টি-শার্ট কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের দিকে ছুটে গিয়ে মারতেও উদ্যত হন কেউ কেউ। এক বিক্ষোভকারীকে জনৈক অংশগ্রহণকারীর লাথি মারার ছবিও সামনে এসেছে। কংগ্রেস অবশ্য সাফ জানিয়েছে, বেকারত্ব, আমেরিকার সঙ্গে ভারতবিরোধী বাণিজ্য চুক্তির মতো ঘটনার ক্ষোভেই এই বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে এদিন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিজেপি যুব মোর্চা। সেখানেও তুলকালাম হয়েছে।
দিল্লির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবেশকুমার মহলার দাবি, অনলাইনে নাম নথিভুক্তির পর কিউআর কোড স্ক্যান করিয়ে সম্মেলনে প্রবেশ করেছে ওই দলটি। স্টিকার ছাপানো টি-শাটের্র উপর সোয়েটার এবং জ্যাকেট পরা ছিল। তাই প্রবেশ পথে ধরা যায়নি। যদিও এহেন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে অমিত শাহের পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে অবশ্য জনাদশেক বিক্ষোভকারীর মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আটক করা হয়েছে যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিব এবং সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চিকারাকে।