নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মঙ্গলবার ভোরে সীমাহীন বর্বরতার সাক্ষী থাকল ক্যানিং। চোর সন্দেহে এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল ক্যানিংয়ের তালদি বাজার এলাকায়। সেই কাণ্ড ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরায়। যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও ‘বর্তমান’ ওই ভিডিও যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাতে দেখা গিয়েছে, শেখ জামিলউদ্দিন নামে বছর আঠাশের ওই যুবককে বেধড়ক মারধর করছে চারজন। মারতে মারতে এক সময় বাঁশ, লাঠি ভেঙে যায়। তারপর কখনও লাথি, কখনও ঘুসি মারা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। এরপর খুঁটিতে বেঁধে চলে অত্যাচার। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু মানুষ তার প্রতিবাদে করলে তাতে কর্ণপাত করেনি ওই যুবকরা। শেষমেশ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাঁর পায়ে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে একটি দোকানের সামনে নিয়ে যায় তারা। তারপর তাঁকে ফেলে রেখেই চম্পট দেয় হামলাকারীরা। ক্যানিং থানার পুলিস খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বাকি দু’জনের খোঁজ এখনও মেলেনি। ধৃতদের নাম বিশ্বজিৎ সাপুই এবং গণেশ সর্দার। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের বাড়ি জীবনতলায়। এদিন ভোরে তাঁকে তালদি বাজার সংলগ্ন মধ্য রাজাপুর এলাকায় ইতস্তত ঘোরাঘুরি করতে দেখে এলাকার কয়েকজন যুবক। তারা ধরেই নেয়, ওই যুবক চুরি করতে এসেছে। এরপর কোনও কথাবার্তা না বলেই জামিলউদ্দিনকে ধরে মারধর শুরু করে তারা। একটা সময় তা চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। ভোরে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় এক প্রবীণ ব্যক্তি তাঁকে মারতে বারণ করলেও তা শোনেনি তারা। পরে তিনি বলেন, আমি ওদের বলেছিলাম, ছেলেটিকে ছেড়ে দিতে। যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ওরা কোনও কথাই শুনল না। উল্টে আমাকে শাসিয়ে চলে যেতে বলল। যে দোকানের সামনে দেহটি পড়েছিল, তার মালিক অরিজিৎ দেবনাথ বলেন, সকালে এসে দেখি ওই যুবক নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, নেশার ঘোরে ঘুমিয়ে আছে। পরে শুনলাম ওকে পিটিয়ে মেরেছে কয়েকজন যুবক।



