সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বাকি ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। তার জন্যই এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল। এমন অভিযোগ উঠেছে এক বাইক সারানোর গ্যারাজের মালিক সহ চার যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার, বাগনান থানার বাইনান ফুলতলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে নিহতের নাম শেখ আব্দুর রহমান (৩০)। বাড়ি পশ্চিম বাইনান দক্ষিণ হাওয়াল গ্রামে। ঘটনায় মৃত যুবকের পরিবার মূল অভিযুক্ত গ্যারাজ মালিক মতাব্বের মল্লিক সহ চার যুবকের বিরুদ্ধে বাগনান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ তদন্তও শুরু করেছে। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক।
মৃত যুবকের শ্বশুর সামাদ মল্লিক জানান, মাস পাঁচেক আগে মতাব্বের মল্লিকের গ্যারাজে জামাই তাঁর বাইক সারিয়েছিল। কিন্তু সারানোর দু’দিনের মধ্যেই বাইকটি ফের খারাপ হয়ে যায়। তখন জামাই ওই গ্যারাজ মালিককে বাইকটি ঠিকমতো সারিয়ে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু মতাব্বের তা করেননি। তাই জামাই বাইক সারানো বাবদ অন্য সব টাকা মিটিয়ে দিলেও ৩০০ টাকা দেয়নি। সেই ৩০০ টাকা বাকি রেখেই নেপালে কাজে চলে যায় সে। এরপর বিশেষ কাজে আব্দুর বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে ফেরে এবং বাইকটি সারনোর জন্য গ্রামের অন্য একটি গ্যারাজে দেয়। এই কথা মতাব্বের জেনে যান। সামাদ মল্লিকের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আব্দুর ওই দ্বিতীয় গ্যারাজটি থেকে বাইক আনতে গেলে মতাব্বের এবং তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। কেন ৩০০ টাকা বাকি রেখে সে অন্য গ্যারাজে বাইক সারাতে দিয়েছে, এই কথা বলে ওই চারজন জামাইকে লাঠি, লোহার রড দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। তাতে আব্দুরের মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতাল, পরে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখানে আব্দুরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে শুক্রবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মাত্র ৩০০ টাকার জন্য এইভাবে আব্দুরকে খুন করায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারি এবং কঠিনতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এনিয়ে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।