সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: পাটুলিতে গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হওয়া যুবকের রহস্যমৃত্যু! লালবাজারে কলকাতা পুলিসের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের গোয়েন্দাদের হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু হয়েছে তাপস মণ্ডল নামে বছর ৩৮-এর ওই অভিযুক্তের। গত ২ জুন রাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এখনও পর্যন্ত এই বন্দি-মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলেই খবর। তবে গোয়েন্দা হেফাজতে থাকাকালীন ধৃত যুবকের মৃত্যুতে স্বভাবতই অস্বস্তিতে কলকাতা পুলিসের শীর্ষকর্তারা। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই অভিযুক্ত সেন্ট্রাল লকআপে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই মারা গিয়েছেন। এক্ষেত্রে যা যা আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা করা হচ্ছে।’
সূত্রের খবর, লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপে থাকার সময় ২ জুন সকালে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই যুবক। পুলিস তড়িঘড়ি তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করায়। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার একটি চুরির মামলায় পাটুলি থানার কাছ থেকে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল লালবাজারে অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াড। কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছে, পুলিস হেফাজতে ধৃত যুবকের রহস্যমৃত্যু নিয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিস। পাশাপাশি, বিধি মেনে ইতিমধ্যেই হেফাজতে বন্দি-মৃত্যুর ঘটনা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরেও আনা হয়েছে।
কলকাতা পুলিসের দাবি, ওই যুবককে হেফাজতে মারধর করা হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মানবাধিকার কমিশনের গাইডলাইন মেনে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভিডিও রেকডিং সহ ময়নাতদন্ত এবং এনকোয়েস্ট করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে, নিউমোনিয়া সহ একাধিক অসুখে আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই রুগ্ন যুবক। সম্ভবত সেই কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মৃত্যুর নেপথ্যে গণপিটুনির কোনও প্রভাব আছে কি না, তদন্তে তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ মে পাটুলি থানার নতুনপাড়ায় এক গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান গড়িয়ার বাসিন্দা তাপস। অভিযোগ, সেদিন বাড়ির মালকিনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বেধড়ক মারধন করে তাপসকে। যদিও শেষ পর্যন্ত তাপস ঘটনাস্থল থেকে পালাতে পরেছিলেন। পরে পাটুলি থানা গ্রেপ্তার করে তাঁকে। অবশ্য তাপসও গণপিটুনির ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে পাটুলি থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। তা নিয়ে যথেষ্ট শোরগোল শুরু হয় সেই সময়।