Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাল সার্টিফিকেট, আধার কাণ্ডে ধৃত যুবক

ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে সাইবার ক্যাফের মালিক এক যুবককে গ্রেপ্তার করল ধুবুলিয়া থানার পুলিস। ধৃতের নাম মুশারফ শেখ।

জাল সার্টিফিকেট, আধার কাণ্ডে ধৃত যুবক
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, ধুবুলিয়া: ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে সাইবার ক্যাফের মালিক এক যুবককে গ্রেপ্তার করল ধুবুলিয়া থানার পুলিস। ধৃতের নাম মুশারফ শেখ। বাড়ি ধুবুলিয়া থানার সোনডাঙা এলাকায়। টাকার বিনিময়ে ওই যুবক ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র তৈরি করে দিত বলে অভিযোগ। মহকুমা শাসকের ডিজিটাল সই জাল করেই তা ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করত বলে পুলিস জানতে পেরেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবক এই কাজ করছিল। ভুয়ো পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে আধার কার্ডও তৈরি করে দিত মুশারফ। তার জন্য ভিনজেলার এক ব্যক্তির রেটিনা ব্যবহার করে কেন্দ্র সরকারের ইউআইডিএআই পোর্টালের ভিতর ঢুকত সে। বেশকিছু ভুয়ো নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। ধৃতকে মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছ’দিনের পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিসের অনুমান, ধৃত যুবক ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রও তৈরি করত। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমপাড়া এলাকায় মুশারফের সাইবার ক্যাফে রয়েছে। যা এলাকাবাসী স্থায়ী আধার কেন্দ্র হিসেবেই চেনে। সেখান থেকেই অনলাইনের যাবতীয় কাজ করত ধৃত যুবক।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করার জন্য এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে নথিপত্র, ল্যাপটপ সহ বেশকিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পুলিসি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, সোমবার রাতে ধুবুলিয়া থানার অন্তর্গত সোনডাঙা পশ্চিমপাড়া এলাকায় পুলিস মুশারফ শেখের বাড়ি থেকে থেকে চারটি ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র, তিনটি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, একটি চোখের রেটিনা স্ক্যানার, বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। সেইমতো ধুবুলিয়া থানার পুলিস ওই যুবকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমা শাসকের ডিজিটাল সই জাল করে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বানিয়ে দিত সে। যদিও সেই শংসাপত্র প্রাথমিকভাবে দেখলে বোঝার উপর নেই যে সেগুলো জাল। পাশাপাশি যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পাওয়া গিয়েছে তাতেও নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 
কেন্দ্রীয় সরকারের আধার কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের জন্য ইউআইডিএআই পোর্টাল রয়েছে। সেই পোর্টালে সবাই ব্যবহার করতে পারে না। তার জন্য অনুমোদন প্রাপ্ত ব্যক্তির চোখের রেটিনার ছবির প্রয়োজন। কিন্তু মুশারফ শেখের কাছে সেই অনুমোদন না থাকায় ভিনজেলার এক বাসিন্দার চোখের রেটিনার ছবি জোগাড় করে। যা দিয়েই অনায়াসে পোর্টালে ঢুকতে পারত মুশারফ। 
পুলিসের অনুমান, ধৃত যুবক এই সমস্ত ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করত যাতে সে আধার কার্ড বানিয়ে দিতে পারে। তার বানানো ভুয়ো শংসাপত্র আধার কার্ড তৈরির নথি হিসেবে ব্যবহার করত। যদিও ধৃত যুবক ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কীভাবে বানাত তা তদন্ত করে দেখছে পুলিস। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক তদন্তে পুলিস দেখেছে যে, ধৃত যুবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ