Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সালকিয়ায় বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় গোবরডাঙা থেকে ধৃত যুবক

সমকামিতার সম্পর্ক, সেখান থেকেই শুরু ব্ল্যাকমেল। তারই মর্মান্তিক পরিণতিতে খুন হাওড়ার সালকিয়ায়। অরবিন্দ রোডের আবাসনে বৃদ্ধ অসীম দে খুনের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই সব তথ্য।

সালকিয়ায় বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় গোবরডাঙা থেকে ধৃত যুবক
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সমকামিতার সম্পর্ক, সেখান থেকেই শুরু ব্ল্যাকমেল। তারই মর্মান্তিক পরিণতিতে খুন হাওড়ার সালকিয়ায়। অরবিন্দ রোডের আবাসনে বৃদ্ধ অসীম দে খুনের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই সব তথ্য। রবিবার গভীর রাতে অভিযুক্ত যুবক প্রসেনজিৎ চৌধুরী ওরফে সঞ্জিতকে গোবরডাঙার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিস। এই দুই পুরুষের সম্পর্ক কয়েক মাসের। এই সম্পর্ককে ঘিরে অসীমবাবু নাকি তাকে ব্ল্যাকমেল করছিলেন, সে কারণেই গত বৃহস্পতিবার ফ্ল্যাটে ঢুকে তাঁকে খুন করে প্রসেনজিৎ। পুলিসি জেলায় এমনটাই জানিয়েছে অভিযুক্ত। ধৃতকে এদিন হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

গত শুক্রবার সকালে সালকিয়া অরবিন্দ রোডের পাঁচতলা আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় অসীম দে’র দেহ। আবাসনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাতে এক যুবক প্রায় দু’ঘণ্টা ওই ফ্ল্যাটে এসে সময় কাটিয়েছে। অসীমবাবুর সোনার আংটি, চেন ছাড়াও তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দিয়েছিল অভিযুক্ত। সেই ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরেই গোবরডাঙা থানার কৃষ্ণনগর বড়পোল থেকে প্রসেনজিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। সূত্রের খবর, প্রসেনজিৎ গোবরডাঙা, হাবড়ার হাটে ঘুরে ঘুরে কাপড় বিক্রি করে। হাওড়া শহরে ওই যুবকের ‘সমকামী বন্ধুদের’ একটি বৃত্ত রয়েছে। মাঝেমধ্যেই এখানে আসা যাওয়া ছিল তার। মাসচারেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় অসীমবাবু অভিযুক্তকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ কলে কথাবার্তা চলে। দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাও বেড়ে ওঠে। একমাস পর সালকিয়ার বাঁধাঘাটে দু’জনে দেখা করে। পুলিস জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ কলে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের স্ক্রিনশট তুলে ধরে গত কিছুদিন ধরে প্রসেনজিতকে ব্ল্যাকমেল করছিলেন অসীমবাবু। সেই ছবি দেখিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে আসার জন্য প্রসেনজিৎকে জোর করতেন তিনি। ঘটনার আগে এক-দু’বার ফ্ল্যাটেও আসে অভিযুক্ত।
হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, দু’জনের মধ্যে এখনও অবধি আর্থিক লেনদেনের তথ্য হাতে আসেনি। বারবার ব্ল্যাকমেল করাতেই অসীমবাবুকে খুন করার পরিকল্পনা করে অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ঘটনার দিন মদের বোতল ও খাবার কেনার জন্য প্রসেনজিতকে অনলাইনে টাকা পাঠিয়েছিলেন অসীমবাবু। সেসব নিয়ে রাত ৮টার পর সালকিয়ার ফ্ল্যাটে ঢোকে প্রসেনজিৎ। মদ্যপানের পর দু’জনের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয় বলে জানিয়েছে পুলিস। এরপর অসীমবাবুর নেশা অতিরিক্ত চড়ে গেলে দেওয়ালে তাঁর মাথা ঠুকে খুন করে প্রসেনজিৎ। দেহটি বিছানায় শুইয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে শ্বাসরোধ করে সে। এরপর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যায়। 
গোটা ঘটনায় হতবাক মৃতের পরিবার। অসীমবাবুর জীবনের এই বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন পরিজনরা। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ