নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: টাকা পাঠানোর ভুয়ো ‘স্ক্রিন শট’ পাঠিয়ে প্রায় তিন লক্ষ টাকার সোনার গয়না হাতিয়ে নিয়েছিলেন এক প্রতারক। হাবড়ার এক ব্যবসায়ীর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই প্রতারককে বুধবার রাতে বাগুইআটি থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম রুধীন্দ্রনাথ মান্না ওরফে অমিত (৫১)। তাঁর কাছ থেকে দু’টি সোনার হার, দোকানের ‘ইনভয়েস’ সহ একটি মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিস। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হলে তিনদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অমিতকে প্রাথমিকভাবে জেরায় পুলিস জেনেছে, অশোকনগরের একটি সোনার দোকানে থেকে এই কায়দায় তিনি সোনার গয়না কিনেছিলেন। তাঁর সঙ্গে প্রতারণা চক্রের আর কেউ যুক্ত আছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, ধৃত অমিতের বাড়ি বাগুইআটির জ্যাংড়া এলাকায়। গত ১১ জুলাই হাবড়ার একটি সোনার দোকানে অমিত অনলাইনে ২ লক্ষ ৯১ হাজার ৬৭৫ টাকা মূল্যের ২৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার হারের অর্ডার দেন। তিনি অনলাইনে টাকা পেমেন্ট করেছেন বলেও জানান। অনলাইনে বহুল ব্যবহৃত একটি সংস্থার টাকা পাঠানোর বার্তা সহ ‘স্ক্রিন শট’ও পাঠান দোকান মালিককে। এরপর ১৩ জুলাই ওই ব্যবসায়ী অর্ডারের সামগ্রী নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন। ১৪ জুলাই ফের ওই দোকানেই আরও ৮ লক্ষ ৮ হাজার ৯৭৩ টাকা মূল্যের সোনার গয়নার অর্ডার দেন অমিত। তখন আগের ‘পেমেন্ট ভেরিফাই’ করতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ ওই সোনা ব্যবসায়ীর। দেখেন, আগের পেমেন্টের টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমাই পড়েনি। শেষে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ১৬ জুলাই, বুধবার তিনি হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার রাতেই অমিতকে বাড়ি থেকে পাকড়াও করেছে পুলিস।এনিয়ে বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (হেড কোয়ার্টার্স) স্পর্শ নীলাঙ্গি বলেন, ভুয়ো ‘স্ক্রিন শট’ দিয়ে গোটা ঘটনা ঘটিয়েছেন অমিত। ধৃত ব্যক্তি এর আগেও একই কায়দায় অশোকনগরের গোলবাজারের একটি সোনার দোকানে থেকে গয়না কিনেছিলেন। নিজস্ব চিত্র