নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: লিভ-ইন পার্টনারকে নির্যাতন করে খুন করল মানসিক অবসাদগ্রস্ত এক যুবক। রীতিমতো ক্ষতবিক্ষত করে ওই মহিলাকে খুন করা হয়। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ডানকুনি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে। ঘটনার জেরে পুলিশ অভিযুক্ত যুবক শাশ্বত বায়েনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম চৈতালি বিশ্বাস (৪২)। তিনি নদীয়ার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শাশ্বত মানসিকভাবে অসুস্থ। কয়েক বছর আগে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তারপর থেকেই বিভিন্ন মহিলাকে বাড়িতে ডেকে আনত। দিনকয়েক একসঙ্গে থাকার পর মারধর করে বের করে দিত। রবিবার রাতে চৈতালি বিশ্বাসের সঙ্গে শাশ্বতর তুমুল বচসা হয়। তারপরেই সে খুন করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ডানকুনির কালীপুর মহিষালপাড়ার শাশ্বতর প্রতিবেশী মহলে। তাঁরা আগেই শাশ্বতকে নিয়ে বিরক্ত ও বিব্রত ছিলেন। এবার খুনোখুনির ঘটনার পর তাঁরা চাইছেন, ওই যুবকের কড়া শাস্তি হোক। স্থানীয় বাসিন্দা সন্দীপ কুণ্ডু বলেন, শাশ্বতকে নিয়ে মহিলাদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। রাতবিরেতে বাড়ির বেল বাজিয়ে বিরক্ত করত। তার উপরে গত কিছুদিন ধরেই অভব্য আচরণ করছিল। ওই যুবকের কড়া শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে রবিবার রাতেই ওই পাড়ায় গিয়েছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলার সূর্য দে। তিনি বলেন, উদ্বেগজনক ঘটনা। পুলিশের তদন্তে আমাদের আস্থা আছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করানো হচ্ছে। পাশাপাশি, শাশ্বতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শাশ্বতকে নিয়ে তাঁর পরিবারও বিব্রত ছিল। তার বাবা ছেলের কারণেই একবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে শাশ্বতর বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তার স্ত্রী তাঁদের দু’টি সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এরপর ফাঁকাবাড়িতে রীতিমতো স্বেচ্ছাচার শুরু করে ওই যুবক। প্রায়ই বাড়িতে সে মহিলাদের নিয়ে এসে মদের আসর বসাত। তারপরে রাতভর মোচ্ছব চলত। অধিকাংশ সময়েই সেই মোচ্ছব মারামারি দিয়ে শেষ হতো। বাড়িতে নিয়ে আসা মহিলাদের মারধর করে বের করে দিত ওই যুবক। দিন পাঁচেক আগে শাশ্বত, চৈতালি বিশ্বাসকে বাড়িতে নিয়ে আসে। রবিবার রাতে মদের আসরে দু’জনের মধ্যে বচসা হয়।



