নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছেলেকে কলেজে ভরতির জন্য কনসালটেন্সি এজেন্সির সঙ্গে যোগোযাগ করে ধর্ষণের শিকার হলেন এক মা। ভরতি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে আট লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি অভিযোগকারিণীর। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পিন্টু বারুই নামে একজনকে রানিগঞ্জ থেকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পাটুলি থানা। অভিযোগ, কনসালটেন্সি এজেন্সিতে আসা ছাত্রী বা তাঁর অভিভাবকদের কথার জালে ফাঁসিয়ে ওই যুবক এর আগেও অনেককে ধর্ষণ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিগঞ্জে অভিযুক্ত যুবক একটি কনসালটেন্সি এজেন্সি খুলেছিল। বিজ্ঞাপন দিয়ে জানানো হয় বিএসসি, বিটেক-সহ স্নাতক স্তরে নানা সাবজেক্টে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতির ক্ষেত্রে সে সাহায্য করে থাকে। তার সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাঁটছড়া রয়েছে। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে তার এজেন্সির একটি ‘কোটা’। শুধুমাত্র এরাজ্যেই নয়, ভিন রাজ্যেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরতির ব্যাপারে হাত রয়েছে তার।
পাটুলির বাসিন্দা ওই মহিলা কিছুদিন আগে ওই বিজ্ঞাপন দেখে তাঁর ছেলেকে কলেজে ভরতির জন্য সেখানে যোগাযোগ করেন। তিনি রানিগঞ্জে ওই কনসালটেন্সি এজেন্সিতেও যান। ছেলেকে ভরতি করিয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে আট লক্ষ টাকা নেয় অভিযুক্ত যুবক। কথা প্রসঙ্গে মহিলার পরিবারের গোপন বিষয়ও জেনে নেয় ওই কীর্তিমান। ছেলের ভরতির জন্য অভিযোগকারিণী প্রায়ই তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করতেন। ভরতির বিষয়ে দুজনের মধ্যে কথাও হত প্রায় নিয়মিত। ওই মহিলার কাছে পিন্টু বারুই দাবি করে, তাঁর ছেলেকে ভরতি করানোর জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টাই করছে।
অভিযোগকারিণী লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ছেলেকে ভরতির বিষয় আলোচনা করবে বলে পাটুলিতে তাঁর বাড়িতেও ওই যুবক বেশ বারকয়েক আসে। তার প্রতি কিছুটা দুর্বলও হয়ে পড়েন তিনি। এই সুযোগে ওই মহিলাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, অভিযুক্ত পিন্টু জানিয়েছিল ওই মহিলাকে সে বিয়েও করবে। কিন্তু ছেলের ভরতির কোনও ব্যবস্থা না-হওয়ায় ওই যুবককে চাপ দিতে শুরু করেন তিনি। তখনই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় যুবকটি। অবশেষে চলতি মাসে পাটুলি থানায় পিন্টু বারুইয়ের নামে অভিযোগ করেন মহিলা। অভিযোগ আনা হয়েছে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের।
পুলিশ তদন্তে নেমে মোবাইলের সূত্র ধরে জানতে পারে, পিন্টু রানিগঞ্জে থাকে। তার তথাকথিত ‘কনসালটেন্সি এজেন্সি’ চলছে সেখানেই। তারপরই বুধবার ওই সংস্থায় হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত যুবক জেরায় তদন্তকারীদের কাছে কবুল করেছে, এই ‘কীর্তি’ তার এটাই প্রথম নয়। তার এজেন্সিতে বিভিন্ন ছাত্রী ও তাঁদের মায়েরা আগেও আসতেন। ভরতি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে এমন কয়েকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গড়ে তোলে সে। এপর্যন্ত একাধিক তরুণী বা মহিলা তার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অ্যাডমিশন এজেন্সি খোলার পিছনে তার আসল মতলব ছিল, তরুণীদের ফাঁসানো। তাই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল আগেও। তবু সে শুধরায়নি।