সংবাদদাতা আরামবাগ: সোমবার গভীর রাতে গোঘাটের মান্দারণ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভগবানপুর গ্রামে স্ত্রী ও শ্যালককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অগ্নিদগ্ধ ভাই-বোন আরামবাগ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে এদিন সন্ধে নাগাদ চন্দ্রকোণা থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত জামাই সন্তু রিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দগ্ধ স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী রিত ও শ্যালকের নাম দেবদাস পণ্ডিত। লক্ষ্মীদেবীর বেশ কয়েক বছর আগে চন্দ্রকোণা থানার রাধাবল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা সন্তু রিতের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দুজনের মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। এরপর তাঁদের একটি সন্তানের জন্ম হয়। দিন আটেক আগে লক্ষ্মীদেবী শ্বশুরবাড়িতে ছেলেকে রেখে বাপের বাড়ি ভগবানপুরে চলে আসেন। লক্ষ্মীদেবীর বাবা সুকুমার পণ্ডিতের অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে আমার মেয়ে ও ছেলে একটি ঘরে শুয়েছিল। সেই সময়ে সন্তু আমার বাড়ির ছাদ দিয়ে উঠে ঘরে ঢুকে আমার ছেলে ও মেয়ের গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে গোটা শরীর। বাড়ির আসবাবপত্রে আগুন লেগে যায়। তারা দুজনে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং ছটফট করতে থাকে। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে কামারপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখানেই তাঁরা চিকিৎসাধীন। এই বিষয়ে লক্ষ্মী দেবীর বাবা সুকুমার পণ্ডিত বলেন, জামাই মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত। এর আগেও আমার মেয়েকে মারধর করেছিল। আমাদের সব কথা বলত। দিন ৮ আগে মেয়ে আমাদের বাড়ি চলে এসেছিল। আমরা পুরো ঘটনা থানায় জানিয়েছি। আমি সন্তুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যদিকে প্রতিবেশীরা বলেন, কী বিভৎস দৃশ্য মুখে বলা যায় না। লক্ষ্মীকে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বাড়ির ছাদ থেকে জামাইয়ের জুতো, দেশলাই এবং পূর্ব মেদিনীপুরের বিড়ি পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ সেইগুলো নিয়ে গিয়েছে। আমরাও দোষীর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।