Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

রাতভর ফোনের নেশা, আঙুল ব্যথায় ভুগছে গেম-রিলসে পাগল যুব সমাজ

ধৈর্য? মেরেকেটে ৭ থেকে ১৫ সেকেন্ড! তারপর নতুন একটা। ফের আরও একটা। এভাবেই আঙুল চলছে মোবাইল স্ক্রিনে। একটার পর একটা রিল আসছে... যাচ্ছে। গেমস-এর পাগলপারা নেশা।

রাতভর ফোনের নেশা, আঙুল ব্যথায় ভুগছে গেম-রিলসে পাগল যুব সমাজ
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০২
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ধৈর্য? মেরেকেটে ৭ থেকে ১৫ সেকেন্ড! তারপর নতুন একটা। ফের আরও একটা। এভাবেই আঙুল চলছে মোবাইল স্ক্রিনে। একটার পর একটা রিল আসছে... যাচ্ছে। গেমস-এর পাগলপারা নেশা। যেন জীবনের অন্য নামই মোবাইল গেম! দু’হাতের বুড়ো আঙুল অনবরত ব্যবহার হয়েই যাচ্ছে।

Advertisement

ফলও মিলছে ‘হাতেনাতে’। হঠাৎ লক হয়ে যাচ্ছে কোনও না কোনও আঙুল। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। কী হবে আঙুলটার? আর কি কাজেই আসবে না? শহরের ব্যথা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশা ও নেশা—দুই ব্যাপারেই আঙুল, হাত ও কবজির উপর রীতিমতো অত্যাচার চালাচ্ছে যুবসমাজের একটা বড় অংশ। তা সে মিলেনিয়ালদের একটা বড় অংশ হোক, বা জেন-জি। জেন আলফা তো ডিজিটাল প্রতিযোগিতায় উসেইন বোল্টের মতো ছুটছে। পেশা হোক বা পড়া—দিনরাত কম্পিউটার টাইপিং, ই-মেইল চলছে। যতটা অবসর, চলছে রিলস স্ক্রল কিংবা গেমিং।

ফ্রিজ থেকে দুধের বোতলটা নিয়ে রওনা দিয়েছেন কেউ রান্নাঘরের দিকে। বলা-কওয়া নেই হঠাৎ কাচের বোতল হাত থেকে পড়ে চুরমার! কারও আবার অসম্ভব হাত ঝিনঝিন করছে। সঙ্গে ব্যথা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতি অথবা ভুল ব্যবহার। এই কারণেই হাত, কবজি ও আঙুলের তিন সমস্যা রীতিমতো কাঁদিয়ে ফেলছে যুবসমাজের একাংশকে। বিশেষত যাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে কাজ করেন। সমস্যা তিনটি হল ‘কারপাল টানেল সিনড্রম’, ‘ট্রিগার ফিংগার’ এবং ‘গেমার্স থাম্ব’! সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, তথ্যপ্রযুক্তির পেশাদাররা যত ধরনের ব্যথায় ভোগেন, তার ৩৭ শতাংশই হাত, কবজি বা আঙুলের। শিয়ালদহ ইএসআইয়ের ইনস্টিটিউট অব পেইন ম্যানেজমেন্টের ইনচার্জ ডাঃ গার্গী নন্দী বলেন, ‘কবজির কারপাল হাড়ের মধ্যবর্তী টানেল দিয়ে যায় মেইডেন নামক এক স্নায়ু। অতি ব্যবহার বা ভুলভাল ব্যবহারে ওই টানেলে প্রদাহ শুরু হয়ে যায়। তারই ফল আচমকা হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া। অথবা ঝনঝন, টনটন করা।’ এছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস এবং গেমসের ঠেলায় বন্দুকের ট্রিগারের মতো লক হয়ে যাচ্ছে দু’হাতের কোনও না কোনও আঙুল। এটাই ‘ট্রিগার ফিংগার’। গেমার বা যারা গেম অন্ত প্রাণ, তাদের আবার শুরু হচ্ছে বুড়ো আঙুলে অসহনীয় ব্যথা। চিকিৎসকরা একেই বলেন ‘গেমার্স থাম্ব’!

তাহলে উপায়? প্রথমত, হাত এবং আঙুলের অতিব্যবহার কমানো। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ব্যবধান দেওয়া, হাঁটাচলা করা। দ্বিতীয়ত, ভুল পশ্চারে টাইপিং না করা। যে কম্পিউটার ডেস্কে বসে কাজ, সেখানে যেন হাতের কবজি পর্যন্ত নরম কিছুর সাপোর্ট পায়। তৃতীয়ত, সুগার, প্রেশার, থাইরয়েড থাকলে এইসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা। না হলে এগুলির আশঙ্কাও বাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ