Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩১৫, ঠেকাতে মাঠে নেমে পড়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর, সতর্কতা জারি

মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩১৫, ঠেকাতে মাঠে নেমে পড়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর, সতর্কতা জারি
  • ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদে গত এক মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৫০ জনের বেশি। জুনের প্রথম সপ্তাহ শেষে মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫০। তারপরও মশাবাহিত রোগীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। বর্তমানে মুর্শিদাবাদে ৩১৫ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু ঠেকাতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চালু হয়েছে স্বচ্ছতা অভিযান। বৃষ্টি ও আবর্জনা স্তূপে জল জমায় মশার লার্ভা দ্রুত বাড়ছে। ফলে, মাঠে নেমে পড়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। বর্ষা শুরু হতেই প্রতি সপ্তাহে এখন ৫০ জনের কাছাকাছি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন। জেলার মহকুমা হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিতে ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা করাতে আসছেন। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও জ্বর নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। ডেঙ্গুর বাড় বাড়ন্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এছাড়াও শিশু থেকে প্রবীণ অনেকেই মরশুম পরিবর্তনে রোগে ভুগছেন।

Advertisement

তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম বলেই দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। তবে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রতি বছর মুর্শিদাবাদ জেলায় হাজার খানেক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুও হয়। বাড়ির আশেপাশে যাতে জঞ্জাল না জমে এখন থেকেই সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে বলছে স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। মুর্শিদাবাদ জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, চলতি বছরে গত ২৩ সপ্তাহে ১৫০ জন আক্রান্তের হদিশ মিলেছিল। এখন ২৯ সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৫। আমরা প্রথম থেকেই সতর্ক। ডেঙ্গু পরীক্ষার ‘কিট’ পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। জেলার সমস্ত ছোট বড় হাসপাতালে সপ্তাহব্যাপী স্বচ্ছতা অভিযানও চালানো হয়েছে। এর ফলে মশাবাহিত রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। গোটা রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা মুর্শিদাবাদেই বেশি হয়। এবার এখন থেকেই পুরসভাগুলিকে সতর্ক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর।  ডেঙ্গু রুখতে প্রতিটি ব্লকের আধিকারিককে আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 
সাধারণত মশার কামড়ের ৩ থেকে ১৪দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়। ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল জ্বর। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বমিবমি ভাব, পেটে ব্যথা, ফুসকুড়ি, শরীরে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং প্রচুর জল পান করা উচিত। জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যথা উপশমের জন্য ‘প্যারাসিটামল’ খেতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ