Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে যায় প্রেমিকা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, সুইসাইড নোটে ওসিকেই দোষারোপ করলেন মৃত যুবক

ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে যায় প্রেমিকা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, সুইসাইড নোটে ওসিকেই দোষারোপ করলেন মৃত যুবক
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর সম্পর্ক রাখেনি প্রেমিকা। অভিমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঁচ পাতার সুইসাইড নোট পোস্ট করে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। সেই নোটে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর জন্য মল্লারপুর থানার ওসিকে দায়ী করেছেন মৃত যুবক। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিস। মৃতের নাম শঙ্খ মণ্ডল ওরফে কিরণ(২৩)। তাঁর বাড়ি মল্লারপুর থানার মহুরাপুর গ্রামে। তিনি ক্যাটারিংয়ের কাজ করতেন। শনিবার সকাল ৯টা বেজে গেলেও ছেলে না ঘুম থেকে না ওঠায় বাবা শান্তিরাম মণ্ডল ডাকতে গিয়ে দেখেন, ঘরে বাঁশের সঙ্গে গলায় ব্যান্ডেজ জড়িয়ে ঝুলছে ছেলে। তিনি ব্যান্ডেজ কেটে ছেলেকে নামিয়ে প্রতিবেশীদের ডাকেন। তড়িঘড়ি তাঁকে মল্লারপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। রামপুরহাট এসডিপিও গোবিন্দ সিকদার বলেন, মৃতের পরিবার অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ জুন ডাকাত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে মল্লারপুর থানার পুলিস। তার মধ্যে ছিলেন শঙ্খ। পরের দিন তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনার দু’দিন পর মিথ্যা মামলায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মল্লারপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। গত বুধবার জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরেন শঙ্খ। 
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে শঙ্খ নিজের ফেসবুক পেজে একটি সুইসাইড নোট পোস্ট করেন। তাতে লেখা, ‘আমি নির্দোষ। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। মল্লারপুর থানার পুলিস আমার কাছ থেকে সব কিছু কেড়ে নিল। ওই রাতে ধাবায় খাবার খেতে যাওয়ার সময় এক ট্রাক চালকের সঙ্গে ঝামেলা হয়। তখন পুলিস এসে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। চারদিন আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে রাতে পুলিস আমাদের কানাচি বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে গিয়ে হাতে ছুড়ি, চাকু, লোহার রড, সাইকেলের চেন ইত্যাদি জোর করে ধরিয়ে ডাকাতির কেস দেয়। আমি সবার কাছে আসামী হয়ে গেলাম।’ 
এরপরই এক যুবতীর নাম উল্লেখ করে লেখা রয়েছে, ‘আমি কিছু করিনি, বিশ্বাস করো। একবার হলেও আমার পাশে দাঁড়াতে পারতে। আমি অনেকবার চেষ্টা করেও তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলাম না। আমি বাঁচতে চাইছি। কিন্তু পারলাম না। এই হাত তোমার হাতে সারাজীবন রাখতে পারলাম না। খুব ভালোবাসতাম গো তোমায়। আমার এই মৃত্যুর পিছনে মল্লারপুর থানার ওসি রাজকুমার দাস-ই একমাত্র দায়ী।’
নিমেষের মধ্যে পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়। এনিয়ে এলাকার বিজেপি নেতা অতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, মৃত যুবকের পরিবার বিজেপি করে। ওসি মিথ্যা কেসে ফাঁসিয়ে তাঁকে জেল খাটিয়েছে। সেই অপমানে সহ্য করতে না পেরে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছে। 
যদিও পুলিস জানিয়েছে, এমন কোনও সুইসাইড নোট তাঁরা পাননি। পরিবারের লোকই দেহ হাসপাতালে নিয়ে আসে। আসলে জেল খেটে বাড়ি আসার পর ওর প্রেমিকা আর কথাবার্তা বলেননি। সেই অভিমানেই আত্মহত্যা করেছে। 
মৃতের বাবা বলেন, ছেলেকে মিথ্যা ডাকাতির কেস দেয় পুলিস। ও পাঁচ পাতার সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছে। তাতে থানার বড়বাবুকে দায়ী করেছে। তবে ছেলের কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না সে বিষয়ে জানা নেই। আমি ভোট দিতে যাই। কিন্তু কোনও দল করি না। • আত্মঘাতী যুবক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ