Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আপকি লেড়কি খতরে মে হ্যায়’, মেমারির নিখোঁজ ছাত্রীর বাড়িতে মুম্বই থেকে ফোন

‘আপকি লেড়কি খতরমে হ্যায়।’ এই কয়েকটা শব্দ বলার পরই লাইন কেটে যায়। বহুবার রিংব্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু মোবাইল সুইচড অফ হয়ে যায়।

‘আপকি লেড়কি খতরে মে হ্যায়’, মেমারির নিখোঁজ ছাত্রীর বাড়িতে মুম্বই থেকে ফোন
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘আপকি লেড়কি খতরমে হ্যায়।’ এই কয়েকটা শব্দ বলার পরই লাইন কেটে যায়। বহুবার রিংব্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু মোবাইল সুইচড অফ হয়ে যায়। অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে এমন ফোন আসার পর রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে মেমারি-২ ব্লকের রধাকান্তপুর এলাকার একটি পরিবারের। প্রায় তিন মাস ধরে ওই পরিবারের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। ১৭জানুয়ারি পরিবারের লোকজন মেমারি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখুঁজি করেন। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। আচমকা ওই ছাত্রীর মোবাইলে কয়েকদিন আগে অচেনা একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ওপার থেকে মহিলা কণ্ঠে জানানো হয়, ওই ছাত্রী ভালো নেই। কিন্তু কোথায়, কী অবস্থায় সে রয়েছে তা আর ওই মহিলা জানায়নি। ওই কয়েকটি কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। ওই নাবালিকার বাবা বলেন, বিষয়টি থানায় জানানো হয়। পুলিস জানিয়েছে, ফোনটি মুম্বই থেকে এসেছিল। মেয়ে কোনওদিন একা কোথাও যায়নি। ও এতদূরে কীভাবে পৌঁছে গেল বুঝতে পারছি না। নিশ্চয়ই খারাপ চক্রে পড়েছে। মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে। ওই ছাত্রীর আর এক আত্মীয় বলেন, তাকে ট্র্যাপে ফেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারও সঙ্গে তেমন সম্পর্ক ছিল না। দূরে কোথাও নিয়ে গিয়ে তাকে আটকে রাখা হতে পারে। ওর কাছে মোবাইল নেই। কিন্তু যে নম্বরে ফোন এসেছিল সেই সূত্র ধরে পুলিস তার কাছে পৌঁছে যেতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে ও আরও সমস্যায় জড়িয়ে যাবে। 

Advertisement

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসেছিল। প্রায় তিন মাস ধরে ছাত্রীটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিস তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। মেমারি থানার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমার কথা হয়েছে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ওই ছাত্রীর খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পরিবারের লোকজন বলেন, ১৩জানুয়ারি ওই ছাত্রী পড়তে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর আর তার খোঁজ মেলেনি। প্রথমে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করেন। কোথাও তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মেমারি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ওর বন্ধুরাও কিছু জানাতে পারেনি। মেয়েকে কেউ ভুল বুঝিয়ে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছে। তাড়াতাড়ি ওকে উদ্ধার করা না গেলে বড় বিপদ হতে পারে। 
অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোনে এক মহিলা কিছু বলতে চেয়েছিল। কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই ফোন কেটে যায়। তিনি হয়তো লুকিয়ে ফোন করেছিলেন। কেউ তাঁর কাছে থেকে ফোন কেড়ে নিতে পারে। সেকারণে তিনি বিশেষ কিছু জানাতে পারেননি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ