নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ফের রাতের শহরে এক তরুণীর উপর পোড়া মোবিল হামলার অভিযোগকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়াল উত্তরপাড়ায়। মঙ্গলবার রাতে শহরের কাঁঠালবাগান বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২৫ মে রাতে উত্তরপাড়া শহরে এক ছাত্রীর উপরে পোড়া মোবিল হামলা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে অবশ্য স্থানীয়রা তাড়া করে হামলাকারীকে ধরে ফেলে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়। ওই যুবকের সঙ্গী সন্দেহে স্থানীয় একটি কারখানার দুই শ্রমিককেও মারধর করে স্থানীয় লোকজন। পরে ভুল বুঝতে পেরে তাঁদের উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিস এসে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাকে আদালতে পেশ করা হয়েছিল।
আক্রান্ত তরুণী রাতেই উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম কিরণ চৌধুরী। সে শহরের ভদ্রকালী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই যুবকের মানসিক বিকৃতি আছে। তার স্থায়ী কোনও পেশা নেই। নানা ধরনের কাজ করে রোজগার করে সে। পুলিসের দাবি, ২৫ মে উত্তরপাড়ায় এক ছাত্রীর উপরে যে পোড়া মোবিল হামলা হয়েছিল, সেই ঘটনাতেও কিরণের যোগ আছে। উত্তরপাড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। কার্যত দশদিনের ব্যবধানে দু’বার মোবিল হামলার ঘটনা ঘটনায় উত্তরপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এনিয়ে সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা সরব হয়েছেন। উত্তরপাড়ার এক স্কুল শিক্ষক সজল মিত্র বলেন, যেভাবে ঘটনা ঘটছে, তাতে উদ্বেগ হওয়াই স্বাভাবিক। ২৫ মে’র ঘটনায় দুষ্কৃতীর হদিশ মেলেনি। মঙ্গলবার রাতের ঘটনাতেও মুখ্য ভূমিকা স্থানীয় লোকজন পালন করেছেন। তাঁদের সাহসিকতার জন্যই দুষ্কৃতীকে ধরতে পেরেছে পুলিস। ফলে উদ্বেগ তো থাকছেই।
উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, একবার কোনও ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা যেতে পারে। কিন্তু দু’বার তা ঘটলে এর পিছনে পরিকল্পনা আছে, বলতেই হবে। তবে এটা ঠিক যে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিকৃত মস্তিষ্ক। নাগরিকদের উদ্বেগ কাটাতে পুলিসকে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করতে হবে। সেই কাজে আমাদের কোনও সাহায্য লাগলে উত্তরপাড়া পুরসভা তৈরি।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কাঁঠালবাগান বাজার দিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তরুণী। সেই সময় বাজার এলাকায় তাঁর গায়ে পোড়া মোবিল ছুড়ে দেওয়া হয়। তরুণীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা দেখেন, এক যুবক দৌড়ে পালাচ্ছে। তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন তাঁরা। তার হাতে পোড়া মোবিলের দাগ ছিল। এরপর তাকে বেদম মারতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরে পুলিস এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। নিজস্ব চিত্র