Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পেলেন যুবকের স্ত্রী,এসআইআর আতঙ্কে সৌদিতে কান্দির বাসিন্দার মৃত্যু

সৌদি আরবে কর্মরত ইব্রাহিম শেখের(৩০) নামে এসেছিল ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র জন্য শুনানির নোটিস।

শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পেলেন যুবকের স্ত্রী,এসআইআর আতঙ্কে সৌদিতে কান্দির বাসিন্দার মৃত্যু
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: সৌদি আরবে কর্মরত ইব্রাহিম শেখের(৩০) নামে এসেছিল ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র জন্য শুনানির নোটিস। কান্দির হিজল পঞ্চায়েতের নতুনগ্রামের ওই যুবককে বারবার বাড়ি ফিরতে বলেছিলেন তাঁর স্ত্রী রেক্সনা বিবি। কিন্তু, সেখান থেকে আসতে পারেননি। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী মঙ্গলবার সকালে কান্দি বিডিও অফিসে নথিপত্র নিয়ে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই হঠাৎ ফোনে খবর পেলেন, তাঁর স্বামী এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement

স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বিডিও অফিস চত্বরেই কান্নায় লুটিয়ে পড়েন রেক্সনা বিবি। কয়েকজন মহিলা তাঁর মাথায় জল ঢেলে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। রেক্সনা বলেন, এমনটা হবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এসআইআর শুধু আমার স্বামীর প্রাণ নিল না, দুই ছেলে সহ গোটা পরিবারকে পথে বসিয়ে দিল।

নতুনগ্রামের নামুপাড়ার ইব্রাহিম শেখ প্রায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে বাগান পরিষ্কারের কাজে গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, অনেকদিন আগে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি সেখানেই থেকে গিয়েছিলেন। কয়েকমাস পরে বাড়ি ফিরবেন বলে ঠিক করেছিলেন। নামুপাড়ায় দু’কামরার একটি বাড়িতে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন থেকে ইব্রাহিমের নামে শুনানির নোটিস এসে পৌঁছয়। তারপরই পরিবারে দুশ্চিন্তা নেমে আসে। রেক্সনা বিবি বলেন, আমি বলেছিলাম, শুনানির নথি জমা দিতে স্বামীকে হাজির হতে হবে। কিন্তু উনি বলছিলেন, বাড়ির যে কেউ নথি জমা দিলেই চলবে। এনিয়ে ফোনে আমাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছিল। রবিবার সন্ধ্যায় শেষবার ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলি। তারপর থেকে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

রেক্সনা জানান, শুনানির নোটিস আসার পর থেকেই আমার স্বামী আতঙ্কে ভূগছিলেন। ফোন করলেই বলতেন, আমরা কয়েকপুরুষ ধরে এই গ্রামেই বাস করছি। অথচ আমাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চক্রান্ত চলছে। এই অত্যাচার সহ্য করতে পারছি না। আমার মৃত্যু ছাড়া পথ নেই।

এদিন সকাল ১১টা নাগাদ রেক্সনা শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। ২১৯নম্বর বুথের জানালায় দাঁড়িয়ে শুনানির কাগজপত্রও জমা দেন। ঠিক সেই সময় তাঁর মোবাইলে একটি কল আসে। তাতেই ইব্রাহিমের মৃত্যুসংবাদ পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার। তিনি বলেন, এসআইআর আতঙ্কে আমাদের জেলায় বহু মানুষের মৃত্যু হল। ইব্রাহিমের শুধুমাত্র বাবার নামের বানান ভুল থাকায় নোটিস এসেছিল। যে ভুলটা করেছে নির্বাচন কমিশন। মৃত যুবকের সমস্ত নথি সহ ঘটনার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছে।  মৃতের শোকার্ত পরিবার। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ