সংবাদদাতা, হলদিয়া: উৎপাদিত পণ্যের গুণমান বাড়াতে হলদিয়া আইওসি রিফাইনারিতে ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। দু’টি নতুন প্রকল্পে ওই বিনিয়োগ হবে। শুক্রবার আইওসির উদ্যোগে একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচীর উদ্বোধনে একথা বলেন হলদিয়া রিফাইনারির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর (ইডি) সুশান্তকুমার দাস। তিনি বলেন, প্রপিলিন রিকভারি ইউনিট (পিআরইউ) এবং ডিএএস নামে দু’টি প্রকল্প হচ্ছে। পিআরইউ প্রকল্পে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এবং ডিএএস প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। হলদিয়া রিফাইনারি আগামীদিনে পেট্রকেমিকেল প্রকল্পের দিকে হাঁটবে, এটি তার প্রথম ধাপ।
আইওসির উদ্যোগে মহিলাদের স্বনির্ভর করতে মৌমাছি পালন বিষয়ক একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। হলদিয়া পুরসভা, সুতাহাটা, হলদিয়া ব্লকের ৩০ জন মহিলাকে এদিন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মৌমাছি চাষের সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যেক মহিলাকে কাঠের তৈরি মৌমাছি চাষের বিশেষ বাক্স, মধু নিষ্কাশন যন্ত্র ও উঁচু কাঠের টুল দেওয়া হয়েছে আইওসির পক্ষ থেকে। আইওসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ওই প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে। এজন্য সুন্দরবন থেকে দক্ষ প্রশিক্ষক ও মৌমাছি আনা হয়েছে। প্রশিক্ষক মহিলাদের ইতিমধ্যেই তিনদিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। হলদিয়ায় শিল্প দূষণের মধ্যে কীভাবে মৌমাছি চাষ সম্ভব, এনিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আইওসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হলদিয়ায় আপাতত ছোট আকারে মৌমাছি পালন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। হলদিয়ার দূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না বায়ো ইন্ডিকেটর হিসেবে আগামীদিনে মৌমাছি চাষের সফলতার মাধ্যমে তা প্রমাণ হবে। এরপর আরও বড় আকারে প্রকল্প নিয়ে হলদিয়ায় আইওসি মৌমাছি চাষ করে 'বায়ো ফেন্সিং' করবে। আইওসির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর বলেন, সারা দেশে আইওসি প্রতিবছর ৫০০ কোটি টাকা সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পে খরচ করে। হলদিয়া সহ পূর্ব মেদিনীপুরে কয়েক কোটি টাকা এই প্রকল্পে খরচ হয়। এই প্রকল্পে প্রায় ১৬ কোটি টাকা খরচে হলদিয়ায় বাস টার্মিনাল, বার্ন ইউনিট গড়েছে আইওসি। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক বিবেকাত্মানন্দজি মহারাজ, রিফাইনারি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী, রিফাইনারি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সম্পাদক পার্থ সাহা, সিএসআর হেড রাজীব মণ্ডল প্রমুখ।