নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দার্জিলিংকে জিরো কার্বন শহর হিসাবে ঘোষণা করতে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের কাছে আরজি। শৈলশহরে যেভাবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে এবং তার জেরে বৃদ্ধি পাওয়া গাড়ির ধোঁয়ায় দার্জিলিংয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনটা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দার্জিলিংয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে বাধ্য বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের কনভেনর রাজ বসু।
পর্যটন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ পাতার প্রস্তাব তাঁরা তুলে দিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীর হাতে। তাতে দার্জিলিং নিয়ে একটি আলাদা চ্যাপ্টার রাখা হয়েছে। চলতি বছর গরমের মরশুমে যেভাবে দার্জিলিংয়ে পর্যটকের ভিড় উপচে পড়ে এবং তার জেরে হোটেলে ঠাঁই নেই অবস্থা তৈরি হয়। কিংবা গাড়িভাড়া কয়েকগুন বেড়ে যাওয়া, তা উল্লেখ করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের আরজি জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম। পাশাপাশি পর্যটনের প্রসারে দার্জিলিং থেকে পশ্চিম সিকিমের নামচি পর্যন্ত রোপওয়ে দিয়ে জোড়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন,পরিবেশ নষ্ট করে কোথাও পর্যটন নয়। দার্জিলিংয়ে আমরা ইকো অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে জোর দিচ্ছি। আরও বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে ধীরে হবে সেগুলি।
রাজ বসু বলেন, দার্জিলিংয়ে ওভার ট্যুরিজম কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আমরা কয়েকদিন আগে মিটিং করেছি। তাতে প্রস্তাব আকারে উঠে এসেছে, সরকারিভাবে দার্জিলিংকে জিরো কার্বন শহর হিসাবে ঘোষণা করা হোক। সেক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত পর্যটকরা গাড়িতে যেতে পারবেন, তারপর তাঁদের হেঁটে কিংবা ব্যাটারিচালিত গাড়িতে ঘুরতে হবে। এতে শৈলশহরে দূষণের পরিমাণ কমে যাবে। এটা করতে পারলে আমরা দেশ-বিদেশের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দার্জিলিং শহর থেকে প্রশাসনিক কার্যালয়গুলিকে সরিয়ে মংপুতে নিয়ে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, পর্যটক ছাড়াও প্রশাসনিক কাজে দার্জিলিংয়ে যাতায়াতের জন্য পাহাড়ি পথে রোজ কয়েকশো গাড়ি চলাচল করে। মংপুতে সিঙ্কোনা প্লানটেশনের প্রচুর জমি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সেখানে অনায়াসেই প্রশাসনিক কার্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব। তাছাড়া অবস্থানগত দিক থেকেও মংপু খুব ভালো জায়গায়। সহজেই যাতায়াত করা সম্ভব।