নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রেললাইন পেরতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুই পা হারালেন এক যুবক। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রাম স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। বারাসত জিআরপি জখম যাত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপতালে। পুলিস জানিয়েছে, জখম যুবকের নাম শান্তনু ঢালি। এদিকে, দুর্ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণ রেলের তরফে কেউ জখম যাত্রীকে উদ্ধার করতে এগিয়ে না আসায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশন ম্যানেজারের ঘরে যান। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে রেলের ওই কর্মীকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়। মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ২০ বয়সের শান্তনুর বাড়ি গুমা পঞ্চাননতলা এলাকায়। সোমবার রাতে মধ্যমগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার ট্রেন ধরতে ফ্লাইওভার ব্যবহার না করে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে রেললাইন টপকেই তড়িঘড়ি ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেই সময় ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ডাউন ট্রেন চলে আসে। সেই ট্রেনের ধাক্কায় দু’টি পা কাটা পড়ে তাঁর। যাত্রীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরেও দীর্ঘক্ষণ পড়েছিলেন ওই যুবক। রেলের তরফে কেউই তাঁকে উদ্ধার করতে আসেনি। শেষে যাত্রীরা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে জখম যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। কেন রেলের কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, তা জানতে স্টেশন ম্যানেজারের অফিসে যান কয়েকজন যাত্রী। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, কেবল অন্তর্বাস পরে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অফিসে বসে রয়েছেন স্টেশন ম্যানেজার। তাঁকে ঘিরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন যাত্রীরা।
রেলযাত্রী শুভদীপ গুহ বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল জখম যুবক। স্টেশন ম্যানেজারের অফিসে গিয়ে দেখি, তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ডিউটি করছেন।’ বারাসত হাসপাতালের সুপার সুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘যুবকের দু’টি পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।’ পূর্ব রেলের জনসংযোগ বিভাগের তরফে দীপ্তিময় দত্ত বলেন, ‘মধ্যমগ্রামের স্টেশন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।’