সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়িতে পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধারের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও গ্রামজুড়ে চলছে চর্চা। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে আসে ফরেন্সিক টিম। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে যায় নমুনা। যদিও ওই বাড়ির মালিক পরিযায়ী শ্রমিক ও তার স্ত্রীর খোঁজ এদিন পর্যন্ত পায়নি পুলিস। ওই দু’জনের নামে মৃতের পরিবার ময়নাগুড়ি থানায় অভিযোগ করেছে। দম্পতি গা ঢাকা দিয়ে থাকায় যুবক খুনে তদন্তকারীদের সন্দেহের ঊর্ধ্বে নেই তারাও।
বুধবার বাইক উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস ব্রহ্মপুরের একটি বাড়ি থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধার করে। মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল দেহটি। এদিকে, যার বাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে সে এবং তার স্ত্রীরও খোঁজ নেই। মাটি খুঁড়ে যে যুবকের দেহ পুলিস উদ্ধার করেছিল তাঁর নাম গৌতম রায় (৩০)।
গৌতম রায়ের বাড়ি ওই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি থেকে প্রায় চার কিমি দূরে। তারা দু’জন বন্ধু। তবে কী কারণে গৌতম খুন হলেন, কে খুন করল, কেনই বা পুঁতে রাখা হল তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিস। ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেন, মৃতের পরিচয় বুধবার রাতেই মিলেছে। কেন গৌতম রায় খুন হলেন, তার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে। তবে যে বাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে সেই বাড়ির মালিক এবং তার স্ত্রী বেপাত্তা। তাদের খোঁজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। এদিন ফরেন্সিক টিম এসে কিছু নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছে।
এদিকে, বুধবারের ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবারও থমথমে এলাকা। অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি বলে জানান। স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ রায় বলেন, এসব টিভিতে দেখেছি, খবরের কাগজে পড়েছি। আমাদের গ্রামে এমন ঘটনা হবে ভাবতেও পারছি না। বুধবার দিনভর ওই বাড়ির সামনে ছিলাম। রাতে দু’চোখের পাতা এক করলেই বারে বারে পলিথিনে বন্দি দেহের ছবি ভেসে আসছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী সঞ্জিত মণ্ডল বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর বাজারে লোক ছিল না। এদিনও লোকজন খুব একটা আসেনি। সকলের মধ্যেই দিনভর একই আলোচনা চলে।
গৌতম রায়ের দেহ উদ্ধারের পর তাঁর বাবা দীপেন রায় বলেন, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ ওই পরিযায়ী শ্রমিক গৌতমকে ফোন করে ওর বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর রাতে ছেলে বাড়ি ফেরেনি। অনেকবার ফোন করা হয়েছিল ছেলেকে। ফোনের রিং হয়েই কেটে যাচ্ছিল। আত্মীয়দের বাড়িতেও খোঁজ নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেলের বাইক পাওয়া যায়। রাতে ছেলের দেহ উদ্ধার করে পুলিস। আমি চাই, পুলিস দ্রুত তদন্ত শেষ করে খুনির শাস্তির ব্যবস্থা করুক।