Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নৌকা থেকে পা পিছলে নদীতে, সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ গড়িয়ার যুবক

বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে প্রথমবার সুন্দরবন ঘুরতে গিয়েছিলেন গড়িয়ার যুবক সুমন্ত পাল। গত শুক্রবার তাঁদের ২২ জনের একটি দল রওনা হয়েছিল।

নৌকা থেকে পা পিছলে নদীতে, সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ গড়িয়ার যুবক
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে প্রথমবার সুন্দরবন ঘুরতে গিয়েছিলেন গড়িয়ার যুবক সুমন্ত পাল। গত শুক্রবার তাঁদের ২২ জনের একটি দল রওনা হয়েছিল। রবিবার তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। সেই মতো সবাই ফিরলেও ফিরলেন না সুমন্ত! কুলতলির কৈখালিতে তাঁদের বোট নোঙর করা ছিল। শনিবার রাতে বোটেই বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করছিলেন সুমন্ত। রাত ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ ভাতের থালা হাতে নিয়ে তিনি বোটের সিঁড়ি ধরে  নেমে আসছিলেন। তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। পা পিছলে বা কোনওভাবে মাতলা নদীতে পড়ে যান তিনি। রবিবার রাত পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে কুলতলি থানার পুলিশ। খবর দেওয়া হয়েছে ডুবুরি টিমকেও। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘ডুবুরিরা এলে আরও জোরদার তল্লাশি চলবে।’

Advertisement

সুমন্তর বন্ধু জয় সাহা বলেন, ‘ওকে বাঁচানোর জন্য আমাদের একজন তখনই জলে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সেও কোনো সুবিধা করতে পারছিল না। তখন পাশ দিয়ে একটি একটি নৌকা যাচ্ছিল। তার সহায়তায় ওকে কোনওভাবে উদ্ধার করা গেলেও সুমন্তকে খুঁজেই পাওয়া গেল না।’ সুমন্তর বাড়ির লোকজন রবিবার ভোরেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন। কুলতলি থানার পুলিশ রাতেই মাতলায় তল্লাশি শুরু করে। তাদের অনুমান, রাতে জোয়ার ছিল। নদীতে প্রবল স্রোত থাকার কারণে তলিয়ে গিয়েছেন ওই যুবক। সুমন্ত সাঁতার জানতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর বাড়ির লোকজন। ঘরের কাছে সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়ে এরকম একটা ঘটনা ঘটবে, তা তাঁরা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।

রবিবার সকালে নদীতে ফের তল্লাশি শুরু হয়। পুলিশ আধিকারিকরা নিজেরাও ঘুরেছেন নদীপথে। নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যদের নিয়েও তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও হদিশ মেলেনি যুবকের। এক পুলিশকর্মী বলছিলেন, ‘জোয়ার-ভাটা যে কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলেছে ওই যুবককে, তা আন্দাজ করাও কষ্টকর। ভাটার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেহ মাটিতে আটকে যায়। তখন দেহ খুঁজে বার করা সহজ হয়। কিন্তু সেরকম কিছুও তো নজরে পড়ছে না। আমাদের আশঙ্কা, মাতলা নদীর অনেক গভীরে ভেসে গিয়েছে ওঁর দেহ। ফলে দেহ উদ্ধারের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।’ বুকের মধ্যে কান্না চেপে রেখে এখনও সুমন্তর পরিবারের সদস্যরা আশায় আছেন, হয়তো কোনোভাবে হাসতে হাসতেই ফিরে আসবে বাড়ির ছেলে!  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ