Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতারণার কোম্পানি খুলেছিল ধৃত যুবক, পার্টনার বিদেশিনী

বিদেশিনী বান্ধবীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশজুড়ে প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল বর্ধমানের মির্জাপুরের ধৃত যুবক। কখনও দুবাই আবার কখনও মালয়েশিয়ায় অফিস খুলে তারা দু’জনে গেমে আসক্ত যুবক-যুবতীদের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিত।

প্রতারণার কোম্পানি খুলেছিল ধৃত যুবক, পার্টনার বিদেশিনী
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিদেশিনী বান্ধবীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশজুড়ে প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল বর্ধমানের মির্জাপুরের ধৃত যুবক। কখনও দুবাই আবার কখনও মালয়েশিয়ায় অফিস খুলে তারা দু’জনে গেমে আসক্ত যুবক-যুবতীদের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিত। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিদেশি বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে সে বর্ধমানে নিজের গ্রামেও এসেছিল। কয়েকদিন এখানে থাকার পর আবার সে দুবাইয়ে ফিরে যায়। লাভজত সিং নামে ওই যুবক প্রতারণার টাকায় কয়েক বছরের মধ্যেই ফুলেফেঁপে ওঠে। একাধিক বান্ধবী বদল করে। তারমধ্যে একজন তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তার সহযোগিতায় সে গেমিং অ্যাপ তৈরি করেছিল। এধরনের গেমের জন্য‌ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ বিভিন্ন তথ্য আপলোড করতে হয়। সেসব তথ্য নিয়েই সে কয়েক কোটি টাকা প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। 

Advertisement

এক পুলিস আধিকারিক বলেন, সে বিভিন্নজনের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে গেমে আসক্ত যুবক-যুবতীদের টাকা হস্তান্তর করত। কয়েক মাস আগে দিল্লির এক যুবক সাইবার প্রতারণার মামলা করে। সেরাজ্যের পুলিস তদন্তে নেমে লাভজতের নাম জানতে পারে। সে দেশে ফেরার পরই পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। ১০-১২টি অ্যাকাউন্টে সে কয়েক কোটি টাকা হস্তান্তর করেছিল। প্রাথমিকভাবে এই হিসেব পাওয়া গেলেও প্রতারণার অঙ্ক অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিস তাকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করছে। এই থানা এলাকারও এক যুবক তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছিল।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক বছরের মধ্যে সে ‘হাইপ্রোফাইল’ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। একসময় এলাকার লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলত। আচমকা সে এলাকা থেকে উধাও হয়ে যায়। পরে জানা যায়, সে বিদেশে রয়েছে। কয়েক মাস পর সে ফিরে আসে। সেইসময় তার জীবনযাপন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। কয়েকদিন থাকার পর আবার বিদেশ চলে যায়। পরে সে এক বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসে। বিদেশে একটি সংস্থায় সে কাজ করে বলে এলাকার বাসিন্দাদের জানিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার পুলিস তাদের বাড়িতে আসার পরই পর্দাফাঁস হয়ে যায়। ভাতার থানা এবং সাইবার ক্রাইম দপ্তরের পুলিস আধিকারিকরা তাকে সঙ্গে নিয়েই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পারেন, লাভজত বিদেশে কোনও সংস্থায় কাজ করত না। সে প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার এক পরিচিত বলে, ও খুব কম সময়ই বাড়িতে থাকত। বেশিরভাগ সময় বাইরে ঘুরে বেড়াত। বাড়ি ফিরলেও কারও সঙ্গে কথা বলত না। তবে প্রথমদিকে সে এমনটা ছিল না। হাতে ‘কাঁচা’ টাকা আসার পরই বদলে যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ