Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

যুবসাথীর ‘টোপ’! অচেনা লিংকে ক্লিক নয়, সতর্কতা পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের

রাজ্যজুড়ে চলছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে নাম লেখানোর শিবির। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত এই আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে উঠেছে।

যুবসাথীর ‘টোপ’! অচেনা লিংকে ক্লিক নয়, সতর্কতা পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যজুড়ে চলছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে নাম লেখানোর শিবির। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত এই আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে উঠেছে। শিবিরের প্রথম দিনেই প্রায় পাঁচ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এই আবহেই উঁকি দিচ্ছে নতুন আশঙ্কা! কারণ, সরকারি কোনো প্রকল্প নিয়ে মানুষের উৎসাহ তুঙ্গে থাকলে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে ওঠে সাইবার প্রতারকরা।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ যখন কোনো প্রকল্প নিয়ে উৎসাহী থাকেন, তখন প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ, প্রতারকরা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সুবিধা চটজলদি বা ঘুরপথে পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ‘টোপ’ দেয়। পরিস্থিতির কারণে অনেকে তা বিশ্বাসযোগ্য মনে করে ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেন। ইতিপূর্বে একাধিক এমন ঘটনা সামনে এসেছে। তাই ‘যুবসাথী’ নিয়ে কোনো অচেনা বা অজানা নম্বর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা হলে আগাম সতর্ক থাকতে হবে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। উৎসাহের ঠেলায় ওটিপি বা অচেনা নম্বর থেকে পাঠানো লিংকে ক্লিক না করা যাবে না বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। 

Advertisement

কীভাবে হতে পারে প্রতারণা? পুলিশ জানাচ্ছে, টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসতে পারে। অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে সরকারি কর্মী বা ব্লক অফিসের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা বলতে পারে, ‘আপনার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু টাকা ছাড়ার আগে ভেরিফিকেশন দরকার। আপনার মোবাইলে যে ওটিপি এসেছে, সেটি আমাদের জানালেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।’ এমন কথায় বিশ্বাস করে বা ঘাবড়ে গিয়ে ওটিপি বা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য ‘শেয়ার’ করলেই সমূহ বিপদ। মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। 
সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ওটিপি বা ‘ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড’ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এটি শেয়ার করা মানে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারের দরজা খুলে দেওয়া। কোনো সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ফোন করে ওটিপি চাওয়ার নিয়ম নেই। দপ্তরের পক্ষ থেকে নথি যাচাইয়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া বা এসএমএসে ভুয়ো লিংক পাঠিয়ে ফাঁদ পাতা হতে পারে। ‘ফর্ম আপডেট করুন’ বা ‘টাকা পেতে লগ ইন করুন’ কিংবা ‘শেষ সুযোগ’—এমন সব বিভ্রান্তিমূলক বার্তা পেলে আগে সরকারি ওয়েবসাইট যাচাই করা উচিত। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘বাংলার বাড়ি বা এসআইআর পর্বে যাতে মানুষ প্রতারিত না হন, তার জন্য আমরা ব্লকে ব্লকে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম। যুবসাথীর ক্ষেত্রেও তেমনটা করা যায় কি না, ভাবনাচিন্তা চলছে।’ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য শর্টকাটের প্রলোভনে পা দেওয়া চলবে না। আমরা জেলা স্তরে সচতেনতা প্রচারের কথা ভাবছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ