দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে একসঙ্গে পাঁচটি রাজ্যের। কিন্তু নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এদিনের লাগামছাড়া উদযাপনের কেন্দ্রে থাকল বাংলাই। সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ধুতি-পাঞ্জাবিতে পরিপাটি বাঙালিবাবু সেজে দলের সদর কার্যালয়ে উপস্থিত হলেন। এদিন কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে ছিল রসগোল্লা এবং মিষ্টি দইয়ের ঢালাও বন্দোবস্ত। ছিল ঝালমুড়ির পর্যাপ্ত জোগান। বাংলায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় আসার পর সোমবার দিনভর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজেপি বুঝিয়ে গেল, পরবর্তী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গে তারা প্রধানত ভরসা রাখছে বাঙালিয়ানার উপরই।
সম্প্রতি নির্বাচনি প্রচারে বাংলায় গিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরবর্তী ক্ষেত্রে সেই ঝালমুড়ি রাজনীতিই যেন রাজ্য রাজনীতির পরিচায়ক হয়ে দাঁড়াল। মূলত সেই পরিচয়ে ইন্ধন জুগিয়েই সোমবার বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতা, কর্মী, সমর্থকদের দেদার ঝালমুড়ি খাওয়াল দল। এদিন কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে হাজির হয়েছিলেন বেলুড়ের বাসিন্দা গৌরী মণ্ডল। ব্যস্ত হাতে ঝালমুড়ি মাখছিলেন তিনি। ভরছিলেন একের পর এক ঠোঙায়। মুহূর্তে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল সেইসব। এদিন পার্টি অফিসের মধ্যেই বিজেপি নেতারা নিজের মধ্যে বিলি করেছেন ঝালমুড়ি। আচমকাই যেন বিজেপির উদযাপনের অঙ্গ লাড্ডুর জায়গা নিয়েছে বাংলার জাল-মুড়ি। বাঙালি পরিচিত মাছে-ভাতে। তাহলে মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে মাছের অভাব কেন? এক বিজেপি নেতার সহাস্য মন্তব্য, উত্তর ভারতে সেভাবে আমিষ খাওয়ার চল নেই তো! নাহলে জমিয়ে মাছের ঝোল ভাতও খাওয়াতাম। এব্যাপারে বিজেপির কোনো ‘ট্যাবু’ নেই। সোমবার সকাল থেকেই বাংলায় পরিবর্তনের ট্রেন্ড স্পষ্ট হতে থাকে। এর ফলে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় জমাতে থাকেন নেতা, কর্মী, সমর্থকরা। তাঁদের একটি বড়ো অংশই বাঙালি এবং বাংলাভাষী।
এদিন বিজেপির জয়ের ব্যবধান যত বেড়েছে, ততই পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাস। দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেদার ফেটেছে আতসবাজি। উড়েছে গেরুয়া আবির। কান পাতা দায় হয়েছে ব্যান্ড, তাসাপার্টির বাজনায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর বেশে হাজির হয়েছেন বিজেপির সমর্থক এক সমাজমাধ্যম প্রভাবী। সকাল থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মনে ঘুরপাক খেয়েছে একটিই প্রশ্ন। কখন আসবেন নরেন্দ্র মোদি? এদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি যখন দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের পার্টি অফিসে এলেন, তখন তাঁর বাঙালি সাজ দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন উপস্থিত নেতা, কর্মী, সমর্থকরা। বেজেছে বাংলা গান। পার্টি অফিসের সভামঞ্চে এদিন হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, রাজনাথ সিং এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। মঞ্চে উঠেই নীতিন নবীনের পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। গলায় পরিয়ে দেন মালাও।