


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলায় ভোট প্রচারে এসে জেলায় জেলায় উত্তরপ্রদেশের উন্নয়ন মডেলের কথা শোনাচ্ছেন যোগী আদিত্যনাথ। কিন্তু তাঁর নিজের রাজ্যে কী হচ্ছে? সোমবার থেকে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে জারি হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ নং ধারা। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল, পদযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগে গাজিপুর তথা উত্তরপ্রদেশ উত্তাল। সমাজবাদী পার্টির এক প্রতিনিধিদলকে ওই নাবালিকার গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কংগ্রেস কর্মীদের। সোমবার সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব হুমকি দিয়ে বলেছেন, বুধবার আমি যাব ওই গ্রামে মৃতার বাড়িতে। দেখি আমাকে কে বাধা দেয়। নিশ্চিয় বড়োসড়ো কিছু গোপন করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই নাবালিকা বিশ্বকর্মা জাতিভুক্ত। হাতরাস থেকে গাজিপুর। যোগী আদিত্যনাথের আমলে সর্বদাই দলিত নাবালিকাদের উপর অত্যাচার একটি প্রবণতায় পরিণত হয়েছে কেন? যোগী আদিত্যনাথের সরকার একটি ঘটনারও তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেনি। এবারও নিশ্চিতভাবে দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই কারণেই ওই গ্রাম তো বটেই, গোটা গাজিপুরকেই দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। অখিলেশ যাদব সোমবার বলেছেন, গাজিয়াবাদ থেকে গাজিপুর। কৃষক সংকট থেকে দলিত অত্যাচার। উত্তরপ্রদেশের গরিব মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে যোগী আদিত্যনাথের আমলে। প্রতিবাদ করার অধিকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। নয়ডায় যেমন শ্রমিক বিক্ষোভ, গাজিয়াবাদে তেমনই কৃষক বিক্ষোভের আগ্নেয়গিরি তৈরি হচ্ছে। গাজিপুরের ওই নাবালিকার মৃত্যুকে অবশ্য পুলিশ বলেছে, আত্মহত্যা। অখিলেশ যাদব দীর্ঘদিন ধরেই বলেছেন, যোগী আদিত্যনাথের আমলে পিডিএ গোষ্ঠী চরম বিপদে। অখিলেশের পিডিএ গোষ্ঠী হল, পিছড়ে-দলিত-অল্পসংখ্যক। অর্থাৎ অনগ্রসর, দলিত ও সংখ্যালঘু। সোমবারও তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে মেয়েদের উপর অত্যাচার মানেই সে অনগ্রসর শ্রেণির হবে। কোনও সন্দেহ নেই গাজিপুরের ঘটনা যোগী আদিত্যনাথকে ব্যাকফুটে ফেলেছে।