নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুয়োরানি উত্তরপ্রদেশ আর দুয়োরানি বাংলা! ইতিপূর্বে একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রের মোদি সরকার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলির প্রতি যতটা উদারহস্ত, বাংলার ক্ষেত্রে ততটাই কৃপণ! এমন বৈষম্যমূলক নীতির আরও একটি উদাহরণ সামনে এল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুয়োরানি উত্তরপ্রদেশ আর দুয়োরানি বাংলা! ইতিপূর্বে একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রের মোদি সরকার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলির প্রতি যতটা উদারহস্ত, বাংলার ক্ষেত্রে ততটাই কৃপণ! এমন বৈষম্যমূলক নীতির আরও একটি উদাহরণ সামনে এল।
সময়সীমা শেষ হয়ে কেটে গিয়েছে তিন বছর। তাও শেষ হয়নি অনুমোদিত কাজ। জমা পড়েনি ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটও (ইউসি)। তা সত্ত্বেও যোগীরাজ্যকে ‘প্রধানমন্ত্রী জনবিকাশ কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় সংখ্যালঘু উন্নয়নের অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্র। উত্তরপ্রদেশ সরকারকে অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চিঠিতেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসমাপ্ত রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। নতুন করে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি তিন বছর আগে শুরু হওয়া অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলির বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি। অথচ, সমস্ত ইউসি, কাজের হিসেব জমা দেওয়া সত্ত্বেও গত পাঁচ বছর ধরে এই প্রকল্পে বাংলার বরাদ্দ আটকে রেখেছে কেন্দ্র। এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক ভিডিও কনফারেন্সে কেন্দ্রের আধিকারিকদের কার্যত চ্যালেঞ্জ ছোড়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। কীসের ভিত্তিতে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যকে অর্থ বরাদ্দ করা হল, জানতে চেয়ে আরটিআই করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বাংলা।
২০১৮ সালের ১ এপ্রিল ‘মাল্টি সেক্টরাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘প্রধানমন্ত্রী জনবিকাশ কার্যক্রম’ করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে রাজ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়। তবে নাম বদলের দু’বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে বন্ধ হয়ে যায় এই খাতের যাবতীয় বরাদ্দ। একাধিকবার চিঠি, ভার্চুয়াল বৈঠক সত্ত্বেও একটি টাকা বরাদ্দ করা হয়নি পশ্চিমবঙ্গকে। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বরাদ্দের ৮৭ শতাংশের বেশি খরচ করে প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে এক নম্বর স্থানে ছিল বাংলা। ১৫৮টি ব্লক, ১৫টি টাউন এবং ১০টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা সদরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, স্বাস্থ্য, নিকাশি, পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ এবং আয়বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল এ রাজ্যে। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ৬৮৭ কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব থাকলেও এখনও এক টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে অসম, মহারাষ্ট্রের মতো ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যকে। এই সূত্রেই পশ্চিমবঙ্গের আমলা মহলের প্রশ্ন, তাহলে কি এক্ষেত্রেও বিরোধী রাজ্য হওয়ার কারণে বঞ্চিত বাংলা?