Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যমরাজের সহকারী চিত্রগুপ্তের পুজো ঘিরে উন্মাদনা আরামবাগের বাতানলে

যমরাজের সহকারী চিত্রগুপ্তের পুজো ঘিরে উন্মাদনা আরামবাগের বাতানলে
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ (বাতানল): যমরাজের ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ চিত্রগুপ্ত। আবার যমরাজের হিসাবরক্ষকও বলা হয় তাঁকে। কারণ মর্ত্যের জীবকূলের পাপ-পুণ্যের হিসেব তো তিনিই রাখেন। সবার তথ্যই তাঁর কাছে লিপিবদ্ধ থাকে। চিত্রগুপ্তকে নিজেদের সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি মনে করেন আরামবাগের কায়স্থরা। ১১৬বছর ধরে তাঁরা আরামবাগ থানার বাতানলে চিত্রগুপ্তের পুজো করে আসছেন। এবারও ভ্রাতৃদ্বিতীয়া তিথিতেই চিত্রগুপ্তর পুজো শুরু হয়েছে।
Advertisement
পুজো কমিটির সম্পাদক শিলাদিত্য সরকার বলেন, কায়স্থদের শ্রীবৃদ্ধি ও সুস্থতা কামনা করে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। পুরোহিত বিষ্ণুর মন্ত্রেই তাঁর পুজো করেন। চিত্রগুপ্তের কপালে ফোঁটা দিয়ে গ্রামে ভাইফোঁটার পবিত্র অনুষ্ঠান শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, ১৩১৫ বঙ্গাব্দে বাতানল গ্রামের ভুপাল সরকার ও তাঁর সহযোগীরা চিত্রগুপ্তের পুজোর প্রচলন করেছিলেন। প্রথমে মাটির চালাঘরে পুজো হতো। এখন একটি দাওয়ায় কাপড়ের মণ্ডপে পূজিত হন চিত্রগুপ্ত। দেবতার গায়ের রং শ্যামবর্ণ। তাঁর চার হাত। এক হাতে গদা, এক হাতে তলোয়ার। অন্য দুটি হাতে থাকে গীতা ও দোয়াত-কলম। চিত্রগুপ্তের বাহন মহিষ।
আগে বাতানলের কায়স্থপাড়ার পরিধি যথেষ্ট বড় ছিল। কিন্তু এখন ১৪-১৫টি পরিবারের বাস। বাকিরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তবে অনেকেই চিত্রগুপ্তের পুজোয় গ্রামে ফিরে আসেন। এবারও চিত্রগুপ্তের পুজোয় তাঁরা গ্রামে ফিরেছেন। ভাইফোঁটার দিনই চিত্রগুপ্ত পুজো পান। এই পুজোর সময় গ্রামের বিবাহিত মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি থেকে ভাইদের ফোঁটা দিতে আসে। গ্রামের বধূরা বাপের বাড়ি যান না। তাঁদের ভাইরা ফোঁটা নিতে বাতানলে আসেন।
বারাসতের বাসিন্দা অর্ণব সরকার বলেন, চিত্রগুপ্তকে সন্তুষ্ট রাখতে ও কায়স্থ পরিবারের সবার সুস্থতা কামনায় আমরা এই পুজো করি। পুজোয় তিনজন ব্রাহ্মণ প্রয়োজন হয়। একজন পুজো করেন। সেই সময় অপর একজন চণ্ডীপাঠ করেন। প্রসাদ রান্নার জন্যও একজন ব্রাহ্মণকে ডাকা হয়। দেবতার ভোগে খিচুড়ি ও নানারকমের ভাজাভুজি থাকে। পুজো শেষে সেই প্রসাদ পাড়ায় বিলি করা হয়।
উদ্যোক্তাদের তরফে গণেশ দত্ত বলেন, এখানে দু’দিন প্রতিমা থাকে। সোমবার বিসর্জন ও প্রসাদ বিতরণ। এলাকার বাসিন্দা দুর্গা মজুমদার বলেন, এখানে চিত্রগুপ্তের কপালে ফোঁটা দেওয়ার পর আমরা ভাইদের ফোঁটা দিই।
সম্পর্কিত সংবাদ