Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যমজ সন্তান সহ প্রসূতির মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

যমজ সন্তান সহ প্রসূতির মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন। শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায় বুধবার রাত ৮টা নাগাদ বিনপুর-২ ব্লকের সুখজোড়া গ্ৰামের বধূ অনিমা মাহাতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান ছিল। ভর্তির এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের লোকজন। 
Advertisement
এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজ্যের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মাসখানেক আগে জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিধায়ক দুলাল মুর্মু কয়েকদিন আগে হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে রোগীদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া নিয়ে সোচ্চার হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে সেইসময় খাবার সরবরাহকারী সংস্থার উপর দায় চাপানো হয়। চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের দিক থেকেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গর্ভে যমজ সন্তান নিয়ে ওই বধূর মৃত্যুতে হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে পরিবার। মৃতের স্বামী গৌরাঙ্গ মাহাত বলেন, বাড়িতে স্ত্রীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। রাতে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করি। অক্সিজেন দেওয়া হয়। স্ত্রী সেইসময় সুস্থ বোধ করছে বলে জানিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর আমাদের জানানো হয়, অবস্থা ভালো নয়। তারপরই মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। স্ত্রীর গর্ভে যমজ সন্তান ছিল। চিকিৎসায় গাফিলতি ছাড়া এমন ঘটনা অসম্ভব। মৃতার ভাশুর সৌমেন মাহাত বলেন, সঠিকভাবে চিকিৎসা হলে বউমাকে অন্তত বাঁচানো যেত। প্রসূতির অবস্থা সঙ্কটজনক হলে চিকিৎসকরা বলতে পারতেন। শুধুমাত্র অবস্থা খারাপ বলা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই মৃত্যুর দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। আমরা থানায় অভিযোগ করব। মৃতার দাদা ভাবনিধি মাহাত বলেন, পুরুলিয়ার বোরো থানা এলাকায় আমাদের বাড়ি। চার বছর আগে বিনপুরে বোনের বিয়ে দিয়েছিলাম। বোনের যমজ সন্তান হবে বলে পরিবারের সবাই খুশি হয়েছিলাম। আমরা এভাবে ওর মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। 
ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অনুরূপ পাখিরা বলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। কোনও চিকিৎসককে আগে দেখানো  হয়নি। রেফারও নয়। ভর্তির এক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ