Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যক্ষ্মা নির্ণয়ের ‘সিবিন্যাট’ মেশিনটি  অকেজো, ধাক্কা নির্মূল অভিযানে

যক্ষ্মা নির্ণয়ের ‘সিবিন্যাট’ মেশিনটি  অকেজো, ধাক্কা নির্মূল অভিযানে
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ এবং এই রোগে মৃত্যু কমাতে সরকারিভাবে নানান প্রচেষ্টা রয়েছে। অথচ রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ মাস ধরে বিকল রোগটি নির্ণয়ের অন্যতম সহায়ক ‘কার্টিজ বেসড নিউক্লিক অ্যাসিড অ্যামপ্লিফিকেশন টেস্ট’ বা ‘সিবিন্যাট’ মেশিন। ধাক্কা খাচ্ছে যক্ষ্মা নির্মূল করার উদ্যোগ এবং অভিযান। 
Advertisement
গতানুগতিক যক্ষ্মার ওষুধ যা ডটস প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তা কার্যকর হয় না মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মার (এমডিআর টিবি) ব্যাকটেরিয়ার উপর। সারা দেশে দ্রুত গতিতে বাড়ছে ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা আক্রান্তের সংখ্যা। এই যক্ষ্মা আক্রান্তদের সুষ্ঠু এবং দ্রুত চিকিত্‍সা পরিষেবা দিতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মেডিক্যালের পাশাপাশি রামপুরহাট মেডিক্যালেও অত্যাধুনিক সিবিন্যাট মেশিন বসানো হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে রোগীকে পরীক্ষার দু’ঘণ্টার মধ্যে জানা সম্ভব, তিনি আদৌ রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মায় আক্রান্ত কি না। ফলে, একদিনের মধ্যে রোগ নির্ণয় এবং ওষুধ চালু করা সম্ভব।
আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত চিহ্নিত করা গেলে একদিকে যেমন রোগীর প্রাণে বাঁচার সম্ভাবনা বেশি, তেমনই রোগীর আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এই ভয়ঙ্কর জীবাণু সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কাও কমানো সম্ভব। কিন্তু রামপুরহাট মেডিক্যালে পাঁচ মাসের উপর থেকে অকেজো সিবিন্যাট মেশিন।  
মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ মে মাসে যক্ষ্মা পরীক্ষার বিল্ডিংয়ে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। জানাজানি হয় পরের দিন সকালে। ততক্ষণে অবশ্য সিবিন্যাট মেশিন, কম্পিউটার সহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি পুড়ে ক্ষতি হয়। তার পর থেকেই বন্ধ যক্ষ্মা পরীক্ষা। ফলে সেদিন থেকেই ঘুরে যেতে হচ্ছে যক্ষ্মা পরীক্ষা করাতে আসা মানুষজন। 
মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ জানান, আগে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে এক-একটি কফ পরীক্ষায় এক থেকে দেড় দিন পর্যন্ত সময় লাগে। তাই রিপোর্ট পেতেও বেশ দেরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্ট নির্ভরযোগ্য হওয়া নিয়েও সংশয়ে থাকেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। কিন্তু সিবিন্যাট মেশিনে নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট পাওয়া যায়। এর আগে সিবিন্যাট মেশিনটি সারিয়ে তুলতে স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন দিয়েছিলেন মেডিক্যালের নার্সরা। কিন্তু তারপরও কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনেকে। 
মেডিক্যালের এমএসভিপি বলেন, যক্ষ্মা নির্ণয় মেশিন খারাপের বিষয়টি তখনই স্বাস্থ্যভবনে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরীক্ষা করাতে এসে অনেককে ঘুরে যেতে হচ্ছে। তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা করিয়ে তারপর এখানে চিকিৎসার জন্য আসতে হচ্ছে। ফলে সময় লাগছে। যেটা আগে এখানেই হয়ে যেত। 
উল্লেখ্য, টিবি মুক্ত ভারত অভিযান শুরু হয়েছে। লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মাকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা। সেজন্য নিক্ষয় মিত্র নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। নিক্ষয় মিত্র অভিযানের অধীনে পর্যাপ্ত পুষ্টির জন্য রোগীদের ‘নিউট্রিশন কিট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে পরিবারের সদস্য এবং আশপাশের লোকজনের মধ্যে ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ে। এটা মারণ জীবাণু। চিকিত্সা চলাকালীন অনেকে মারা যান নানা কারণে। এর জন্য রোগ নির্ণয়ের বিলম্বকেই দায়ী করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। 
সম্পর্কিত সংবাদ