Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যজ্ঞনগরের মানুষের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে দিন কাটায় শামুকখোল আর কাস্তেচরা

যজ্ঞনগরের মানুষের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে দিন কাটায় শামুকখোল আর কাস্তেচরা
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: নভেম্বর এলেই মন খারাপ হয়ে যায় হাসমত, রিপন, শাহাবুদ্দিনদের। ফের অপেক্ষা মে মাসের। মানে বাংলার জৈষ্ঠ মাস। জৈষ্ঠ মাস এলেই যজ্ঞনগর গ্রামের বিশাল বিশাল প্রাচীন তেঁতুলগাছগুলি ভরে ওঠে অতিথিদের কল-কাকলিতে। শামুকখোল আর কাস্তেচরা, এই দুই পাখির দল এসে বাসা বাঁধে গাছের ডালে। এই দুই পাখির আগমনে চাষিদের মন খুশিতে ভরে ওঠে। এদের আনাগোনাকে শুভ বলে মনে করেন গ্রামবাসীরা। বদরে আলম, শেখ শাহাবুদ্দিন বলেন, এই পাখিরা আসার পরেই বর্ষা আসে। যা কৃষকদের পক্ষে মঙ্গলজনক। পাশাপাশি, শামুকখোল পাখির মল জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই এলাকায়। যা চাষের অত্যন্ত উপযোগী। তাই গ্রামের মানুষ সস্নেহে আগলে রাখেন অতিথি পাখিদের, যাতে কেউ তাদের অনিষ্ঠ না করে। ফলে পাখিরা এখানে নিশ্চিন্তে বাসা বাঁধে। তবে, বাচ্চা বড় হওয়ার পর নভেম্বর মাসের শেষের দিকে এই পাখিরা ফিরে গেলে মন খারাপ হয়ে যায় গ্রামবাসীদের। 
Advertisement
মূলত, প্রতিবছর জৈষ্ঠ মাসে নানুর থানার বাহিরী-পাঁচশোয়া পঞ্চায়েতের যজ্ঞনগরে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে বাসা বাঁধে এই দুই পাখি। তবে শামুকখোল সংখ্যায় অনেক বেশি থাকে। যদিও গ্রামে তেঁতুল গাছ কমে যাওয়ায় ইদানীং পাখির সংখ্যাও অনেক কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা হাসমত আলি, রিপন কাজি বলেন, বর্ষাকাল এই পাখিদের প্রজননের সময়। জৈষ্ঠ মাস এলেই বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে এই পাখিরা। পাখির কলরবে মুখরিত হয় গোটা গ্রাম। তবে গ্রামবাসীরা তাঁদের কোনও অনিষ্ঠ করে না বলে বহু বছর ধরে ডিম পাড়তে এখানেই আসে দুই প্রজাতির পাখি। চোরাশিকারির হাত থেকে অতিথি শামুকখোল ও কাস্তেচরা পাখিদের আগলে রাখেন গোটা গ্রামের মানুষ। তাঁরা প্রায় পাঁচ পুরুষ ধরে শামুকখোল ও কাস্তেচরা এই দুই পাখির আনাগোনা প্রত্যক্ষ করছেন। তাই এই পাখিদের সঙ্গে গ্রামের মানুষের একটা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তবে একটা সময়ে লক্ষাধিক পাখি আসত বলে দাবি প্রবীণদের। কিন্তু চোরাশিকারি সহ নানা কারণে পাখির সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। এখন চোরাশিকারিরা যাতে এই পাখিদের মারতে না পারে সেজন্য অতন্দ্র প্রহরী হয়ে তাদের রক্ষা করেন যজ্ঞনগরের বাসিন্দারা। 
শামুকখোল বা এশিয়ান ওপেন বিল স্টর্ক স্থানীয়দের কাছে পরিচিত শংখল নামে। এটি মূলত সারস জাতীয় পাখি। ‌এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানাস্টোমাস অসিটান্স। মূলত শামুক, ঝিনুক, গুগলি, ব্যাঙ, কাঁকড়া ও ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী খেয়েই এরা জীবন যাপন করে। অন্যদিকে, কাস্তেচরা বা ব্ল্যাক হেডেড আইবিস নামের পাখিটি অল্প সংখ্যক এলেও এরাও শামুকখোলের সঙ্গে একই গাছে প্রতিবেশী হিসেবে থাকে। থ্রেসকিওরনিস মেলানোসেফালাস‌ এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম। খাদ্যাভ্যাস শামুকখোলের মতোই। তবে সারা বিশ্বে আশঙ্কাজনকভাবে এই পাখির সংখ্যা দিন দিন কমছে। তাই এই দুই পাখির বিচরণ ক্ষেত্র যাতে অবাধ থাকে, সেজন্য যজ্ঞনগরের বাসিন্দারা এদের আগলে রাখে। 
সম্পর্কিত সংবাদ