ইন্দ্র মহন্ত, বালুরঘাট: যোগীরাজ্যের বাসিন্দাদের অন্ন জোগাচ্ছে ‘মমতা দিদি’। সৌজন্যে বাংলার বাড়ি প্রকল্প। যে প্রকল্পের সঙ্গে পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বঞ্চনা। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প থেকে লাভবান হচ্ছেন বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দারাও। একই সঙ্গে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে রোজগার দেওয়ার প্রশ্নে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যর্থতা।
Advertisement
মমতার বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকতেই বাড়ি তৈরি শুরু করেছেন উপভোক্তারা। চাহিদা ব্যাপক বাড়তে থাকায় বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর আকাল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হঠাত্ ইটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুরের উপভোক্তাদের। কারণ এই জেলায় ইটের ব্যবসার পরিধি খুব একটা বড় নয় বলে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য থাকছে না। মাত্র ৫২টি মাঝারি-ছোট আকারের ইটভাটা রয়েছে এই জেলায়। চাহিদানুযায়ী ইট সরবরাহ করতে আসরে নেমে পড়েছেন উত্তরপ্রদেশের কিছু বাসিন্দা। ট্রাক্টর নিয়ে তাঁরা আপাতত ঘাঁটি গেড়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। ৪৫টি ট্রাক্টর নিয়ে এই জেলায় এসেছে ১৫০ জনের একটি দল। মালদহ, বিহার সহ জেলার অন্যান্য ভাটা থেকে ইট কিনে ট্রাক্টরে করে গ্রামে গ্রামে বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে উপভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন। উপভোক্তাদের অনেকেরই বক্তব্য, দামও কম নিচ্ছেন ভিনরাজ্যের বাসিন্দারা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পবন গোয়েঙ্কা বলেছেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে ট্রাক্টর নিয়ে এসে কিছু লোক এখানকার ইটভাটা থেকে ইট কিনছে। সেই ইট গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করছে। এতে আমাদের বিক্রি বেড়েছে, সাধারণ মানুষও দোরগোড়ায় ইট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যের নিজস্ব অর্থের প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’র প্রথম পর্যায়ে ১২ লক্ষ উপভোক্তার কাছে টাকা পৌঁছনোর পরেই ইমারতি সামগ্রীর চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। বিশেষ করে ইটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই প্রেক্ষিতে পঞ্চায়েত দপ্তর জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়—‘জেলার প্রয়োজন অনুযায়ী যদি জোগান সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে পাশের জেলা থেকে তো বটেই, প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও ইট আনা যেতে পারে।’ সূত্রের খবর, নবান্নের এই নির্দেশের পর জেলাস্তরে ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রশাসন। আগামী তিনমাসে ঠিক কতটা ইটের প্রয়োজন পড়বে, তা নির্ধারিত হয়। সেখানেও দেখা যায়, ভিন রাজ্য থেকে ইট আমদানির প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সেই আমদানি ও বিক্রির কাজটি করছেন উত্তর প্রদেশের কারবারিরা।
উত্তরপ্রদেশের মাহবা জেলার কাবরাইয়ের বাসিন্দা রাফাকত আলি, নৌশাদ আলি বলেন, আমাদের কাছে যে কেউ ইট কিনতে পারেন। প্রতি ট্রাক্টরে দু’হাজার করে ইট নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিক্রি করছি। জেলাজুড়ে ট্রাক্টর নিয়ে ঘুরলেও, আমাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না, কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। বেশ ভালোই ব্যবসা হচ্ছে। মনে হচ্ছে দিদি’র রাজ্যে এসে কপাল খুলে গিয়েছে।
রাতে বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক্টরে ইট লোড করে সাতসকালে উত্তরপ্রদেশের ব্যবসায়ীরা বেরিয়ে পড়ছেন বিক্রির জন্য। মুলত তাঁরা ইটভাটাতেই থাকছেন। সেখানে দলবেঁধে রান্নাবান্না করায় খরচও অনেক কম হচ্ছে। নৌশাদদের কথায়, সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে দিনে ইট ব্যবসায়ীদের গড়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। রাফাকতদের কথায়, নিজেদের রাজ্যে সেভাবে ব্যবসার সুযোগ নেই। সংসার চালাতে আপাতত তাঁদের ভরসা দিদির রাজ্যই।
উত্তরপ্রদেশের মাহবা জেলার কাবরাইয়ের বাসিন্দা রাফাকত আলি, নৌশাদ আলি বলেন, আমাদের কাছে যে কেউ ইট কিনতে পারেন। প্রতি ট্রাক্টরে দু’হাজার করে ইট নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিক্রি করছি। জেলাজুড়ে ট্রাক্টর নিয়ে ঘুরলেও, আমাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না, কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। বেশ ভালোই ব্যবসা হচ্ছে। মনে হচ্ছে দিদি’র রাজ্যে এসে কপাল খুলে গিয়েছে।
রাতে বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক্টরে ইট লোড করে সাতসকালে উত্তরপ্রদেশের ব্যবসায়ীরা বেরিয়ে পড়ছেন বিক্রির জন্য। মুলত তাঁরা ইটভাটাতেই থাকছেন। সেখানে দলবেঁধে রান্নাবান্না করায় খরচও অনেক কম হচ্ছে। নৌশাদদের কথায়, সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে দিনে ইট ব্যবসায়ীদের গড়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। রাফাকতদের কথায়, নিজেদের রাজ্যে সেভাবে ব্যবসার সুযোগ নেই। সংসার চালাতে আপাতত তাঁদের ভরসা দিদির রাজ্যই।



