লখনউ: মাটিতে পড়ে রয়েছে এক সদ্যোজাত শিশুর নিথর দেহ। তাকে খুবলে খাচ্ছে বেশ কয়েকটি পথকুকুর। আশপাশের তাড়া করার আগেই শিশুর গোটা মাথাটিই খেয়ে নেয় সারমেয়গুলি! মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ঘটনায় ফের বেআব্রু যোগীরাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল দশা। জানা গিয়েছে, রবিবার উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে থাকা জেলা মহিলা হাসপাতালে জন্ম হয়েছিল ওই শিশুর। ওজন অত্যন্ত কম ও অসুস্থ হওয়ায় তাকে স্পেশাল নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে (এসএনসিইউ) রাখে কর্তৃপক্ষ। সেদিন সন্ধ্যাতেই ওই সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়। তারপর ওই ঘটনা। যদিও কুকুর-কাণ্ডের দায় ঝেড়ে ফেলতে তৎপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সদ্যোজাতের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তারা প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে সেটি ফেলে দেয়। হাসপাতালের ট্যাগও খোলা হয়নি। তাদের গাফিলতির জন্যই এই পরিস্থিতি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বুধবার চারজন চিকিৎসককে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছেন ললিতপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
Advertisement
হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মীনাক্ষী সিংয়ের দাবি, শিশুটির মাথা ও মেরুদণ্ড কোনওটিই যথাযথভাবে তৈরি হয়নি। ওজনও অত্যন্ত কম ছিল। জন্মের পরেই তাকে এসএনসিইউতে স্থানান্তরিত করা হলেও বাঁচানো যায়নি। পরে দেহ তার কাকিমার কাছে তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, এক শিশুর মাথাবিহীন দেহ পড়ে রয়েছে। পরিবারে উপর দায় ঠেললেও হাসপাতালের দায়িত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, একটি সদ্যোজাতের দেহ পরিবারের সদস্যরা ফেলে চলে গেল, পথকুকুর তাকে খুবলে খেল—অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুই জানতে বা দেখতে পেল না, এটা বিশ্বাস করা অসম্ভব। তাছাড়া, পুলিস আসার আগেই সেখান থেকে দেহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।



