নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: যাদবপুরে তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠনের সভায় হামলার ঘটনায় বীরভূম জেলার মহম্মদবাজারের এক যুবক পুলিসের জালে ধরা পড়েছে। মহম্মদ শাহিল নামে ওই যুবক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। তাঁর গ্রেপ্তারির ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা হতবাক। শাহিল ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা-সেবিষয়ে তার পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত নন। ধৃতের একসময়কার শিক্ষকও ঘটনাটি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না। পরিবারের দাবি, সমাজসেবামূলক কাজে শাহিলের ঝোঁক ছিল। এধরনের কাজে সে জড়িত থাকতে পারে না।
Advertisement
তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভায় বাম-অতিবাম পড়ুয়াদের হামলার ঘটনাকে ঘিরে শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। সেই ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর গাড়ির কাচ ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন উপাচার্য তথা যাদবপুরের প্রবীণতম অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রও পড়ুয়াদের হাতে নিগৃহীত হন। সেই ঘটনাতেই মহম্মদ শাহিল পুলিসের জালে ধরা পড়েছে। ধৃত যুবকের পরিবার জানিয়েছে, ২০১৯-’২৩ সাল অবধি সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। এরপর ২০২৪ সালে একটি সংস্থায় কাজে যোগ দেয়। গল্ফগ্রিন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে। তার বাবা নওসাদ আলি বলেন, ওইদিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। রবিবার শেহেরি করবে বলে জানিয়েছিল। তারপর থেকে ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিন বিকেলে পুলিস জানিয়েছে, ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু কেন ওকে গ্রেপ্তার করা হল বুঝতে পারছি না। আমার ছেলে কলকাতায় একটি সংস্থায় কাজ করে। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিনা-তা জানা নেই। এতদিন ধরে যদি ছাত্র রাজনীতি করত-তাহলে আমার কাছে কিছু খবর থাকত। ধৃতের স্কুলশিক্ষক ইমামুল হক বলেন, ক্লাস ফাইভ থেকে ওঁকে দেখছি। খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। ও এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তা ভাবতেই পারছি না।



