Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যুবকের রহস্যমৃত্যুতে নেশাড়ু তত্ত্ব, দেহের পাশে বহু সিরিঞ্জ

যুবকের রহস্যমৃত্যুতে নেশাড়ু তত্ত্ব, দেহের পাশে বহু সিরিঞ্জ
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কোতোয়ালি থানার দুর্গাপুরের আমবাগান থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নয়া মোড়। তদন্তকারীদের নজরে এবার একাধিক ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ! ঘটনাস্থলে মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল সেগুলি। বলাই বাহুল্য, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পাশাপশি সেই সিরিঞ্জগুলির নমুনাও অনেকটাই নিশ্চিত করে বলে দেবে শান্তিপুরের বাসিন্দা হৃত্বিক মুন্সির মৃত্যুর কারণ। 
Advertisement
রবিবার সকালে কোতোয়ালি থানার দুর্গাপুরের একটি আমবাগান থেকে উদ্ধার হয়েছিল ওই যুবকের মৃতদেহ। শান্তিপুরের বেড়পাড়ার বাসিন্দা হৃত্বিক কলকাতার একটি নামী রেস্তরাঁয় কর্মরত। সপ্তাহ আনতে বাড়ি আসতেন তিনি। শনিবার বাড়ি আসার পর, সৌরভ নামে এক বন্ধুর সঙ্গে রাস দেখতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর আর ফেরেননি। রবিবার সকালে শান্তিপুর থেকে ঢের দূরে কোতোয়ালি থানার দুর্গাপুরের ওই আমবাগান থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর নিথর দেহ। তদন্তে ঘটনাস্থল থেকেই বেশ কয়েকটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। প্রতিটি সিরিঞ্জ খালি থাকলেও মৃত্যুর কারণগুলির সঙ্গে সিরিঞ্জগুলির যোগ রয়েছে বলেই আপাতত অনুমান তদন্তকারীদের। মৃত যুবকের এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, হৃত্বিক বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের নেশাও করত বলে শুনেছিলেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ‘ড্রাগ’ নেওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তাহলে কি ড্রাগের নেশা করতে গিয়ে ওভারডোজ হয়ে যাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের? তদন্তকারীরা প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি না হলেও, সূত্রের খবর তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি তাদের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তাঁরা ময়নাতদন্তে রিপোর্টের উপরেই আস্থা রাখছেন। তবে পরিবারের লোকজন তাঁদের ছেলে কোনও নেশায় আসক্ত ছিল বলে স্বীকার করেননি। মৃতের বোন জানান, দাদা আগে মাঝেমধ্যে মদ্যপান করলেও তা ছেড়ে দিয়েছিল। মাঝেমধ্যে বিড়ি সিগারেট খেত। এর বাইরে অন্য নেশা করতে কখনও দেখিনি। যদিও পুলিসের এক কর্তা বলেন, ময়নাতদন্ত না হলে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়। রিপোর্ট হাতে এলে বিস্তারিত বলতে পারব। আমরা ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু খালি সিরিঞ্জ পেয়েছি। বাকি সমস্ত বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
এদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর পুত্রশোকে পাথর মা ছেলের পলাতক বন্ধু সৌরভের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুললেও, শেষ পর্যন্ত তাঁরা কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তাঁদের দাবি ছিল, রাস দেখতে যাওয়ার নাম করে ঋত্বিকের এক বন্ধু সৌরভ তাঁকে সন্ধ্যা বেলা ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর রাতে সৌরভ বাড়ি ফিরে এলেও হৃত্বিক ফেরেননি। গভীর রাতে সৌরভ হৃত্বিকের বাড়িতে ফোন করে, বন্ধুর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানালেও অসুস্থতার স্থান-নাম বলতে গিয়ে রীতিমতো এলোমেলো উত্তর দিয়ে ফোন কেটে দেয়। এরপর পরদিন দেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানাজানি হয়। ফলে পুলিস কোনও লিখিত অভিযোগ না পেয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেই তদন্ত শুরু করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ