Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যুবককে বিষ খাইয়ে খুন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা

যুবককে বিষ খাইয়ে খুন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: কালীপুজোর চাঁদা না দিতে পারা নিয়ে বচসা। তার জেরে জয়পুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে মারধর ও বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক মণ্ডল সহ সভাপতি সহ চারজনের বিরুদ্ধে। পুলিস বুধবার রাতে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম দিলীপ দে। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তুলে পুলিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মারধরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে আত্মহত্যা নাকি জোরপূর্বক বিষ খাওয়ানো হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুরের বাড়াভগলদিঘির বাসিন্দা রাজকুমার কুণ্ডু(৩৬) মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাঁর চিকিৎসা চলছিল। নিয়মিত ওষুধ খেতেন। তিনি এবং তাঁর মা দু’জনে বাড়িতে থাকতেন। অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারতেন না। কালীপুজোর আগে চাঁদা চাইতে এলে তাঁরা তা দিতে পারেননি। পুজো শেষ হলেও মঙ্গলবার তা নিয়ে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে রাজকুমারের বচসা হয়। ওই সময় রাজকুমার নাকি পুজো উদ্যোক্তাদের কয়েকজনকে গালিগালাজ করেন। তাতেই তারা খেপে যায়। বিজেপি নেতা বিকাশ দে সহ চারজন মিলে রাজকুমারকে রড ও কাটারির বাট দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ। মারতে মারতে তাঁকে নিজের ঘরে ঢুকিয়ে দরজার বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, অভিযুক্তরা ঘরের ভিতরে রাজকুমারকে প্রাণে মারার জন্য জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে ঘর বন্ধ করে চলে যায়। পরে ঘরের ভিতর থেকে রাজকুমারের চিৎকার শুনতে পেয়ে তাঁর মা তালা খুলে দেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের হাতে পায়ে ধরেন। তারপরেই তারা চাবি হাতে দেয়। চাবি খুলে দেখা যায় রাজকুমার ঘরের ভিতরে বিষক্রিয়ায় ছটফট করছেন। তখন পাড়ার অন্যান্যদের সহযোগিতায় তাঁকে প্রথমে জয়পুর ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবিতে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য মৃতদেহ বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। ওইদিনই মৃতের দাদা স্বরূপ কুণ্ডু জয়পুর থানায় বিকাশ সহ চারজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। 
তৃণমূল কংগ্রেসের জয়পুর ব্লক সভাপতি কৌশিক বটব্যাল বলেন, পুজোর চাঁদা দিতে না পারায় একজন অসুস্থ মানুষকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে। বিজেপি নেতার হিংস্রতা গ্রামের মানুষ দেখেছে। পুলিস ঘটনার তদন্ত করছে। 
বিজেপির কোতুলপুর মণ্ডল-৩ এর সভাপতি নবকুমার চক্রবর্তী বলেন, পুজোর চাঁদা নয়, রাজকুমার মন্দির অপবিত্র করছিল। বারণ করায় অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল। সেই জন্য বিকাশবাবু সহ অন্যান্যরা তাঁকে বকাবকি করে ঘরে পৌঁছে দিয়ে এসেছিলেন। সাময়িক ঘরে আটকে রেখে তাঁর মায়ের হাতে চাবি দিয়ে এসেছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। বিকাশবাবু বিজেপি করেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র  করা হচ্ছে। 
মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় মৃতের পরিবারের লোকজন এনিয়ে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা বলেন, রাজকুমার অসুস্থ ছিল। আর্থিক কারণে তারা চাঁদা দিতে পারেনি। তার জন্য বিজেপির ওই নেতা নৃশংসভাবে রাজকুমারকে মারধর করে। 
সম্পর্কিত সংবাদ