বিশাখাপত্তনম: টেস্ট সিরিজে পরাজয়ের ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ পড়ল। তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ ব্যবধানে হারাল ভারত। শনিবার বঙ্গোপসাগরের তীরে প্রোটিয়াদের কার্যত হেলায় নকআউট পাঞ্চ মারল হোমটিম। ২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৬১ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছয় লোকেশ রাহুলের দল। যশস্বী জয়সওয়ালের অপরাজিত ১১৬ রানের সুবাদে জয় এল ৯ উইকেটে। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অবদান রাখলেন রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি। বোলিংয়ে আবার নজর কাড়লেন কুলদীপ যাদব, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। সার্বিকভাবে, এদিন প্রোটিয়াদের উপর রোলার চালাল ভারত।
এই সিরিজে টস যে কত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা আবার দেখা গেল এদিন। ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে শেষবার টস জিতেছিল ভারত। ২০টা টস হারার পর অবশেষে এদিন কাটল খরা। বাঁ-হাতে টস করেছিলেন ক্যাপ্টেন রাহুল। জেতার পর তাঁর মুখে চওড়া হাসি। ম্যাচের শেষে সেটাই উৎসবের চেহারা নিল। রাঁচি ও রায়পুরে ভারতীয় বোলারদের অসহায় দেখাচ্ছিল। স্পিনাররা ভেজা বল গ্রিপ করতে সমস্যায় পড়ছিলেন। এদিন শুকনো বলে কুলদীপ যাদবের সামনে প্রোটিয়াদের দিশাহারা লাগল। চায়নাম্যান নিলেন চার উইকেট। ভাগ্য সহায় থাকলে শিকার সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা রায়পুরে দিয়েছিলেন ৮৫ রান। এদিনও শুরুতে ছন্দ পাননি। তবে দ্বিতীয় স্পেলে তিন উইকেট নিয়ে বিপক্ষ ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভাঙলেন প্রসিদ্ধ। সেটাই ম্যাচে ফেরাল দলকে। আর তাঁর চতুর্থ উইকেট দাঁড়ি ফেলল প্রোটিয়া ইনিংসে। তেম্বা বাভুমাদের ২৭০ তোলার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল কুইন্টন ডি’ককের। ওডিআই কেরিয়ারের ২৩তম শতরানে পৌঁছতে তিনি নেন ৮০ বল। ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র ২৩ ইনিংসে এটি তাঁর সপ্তম সেঞ্চুরি। তবে কুইন্টন ফিরতেই কুলদীপের সামনে আত্মসমর্পণ করে প্রোটিয়ারা।
ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা ধীরেসুস্থে করেন রোহিত-যশস্বী। অফস্টাম্পের বাইরের বলে সংযম দেখাতে থাকেন বাঁ-হাতি ওপেনার। তুলনায় রোহিত ছিলেন আক্রমণাত্মক। তাঁর পঞ্চাশ আসে ৫৪ বলে। সেখানে অর্ধশতরানে পৌঁছতে যশস্বী নেন ৭৫টি ডেলিভারি। এরপর গিয়ার পাল্টান তিনি। পরের পঞ্চাশ আসে ৩৬ বলে। কেরিয়ারের চতুর্থ ওডিআই’তে প্রথম শতরানের স্বাদ পেলেন যশস্বী। তাঁর ১২১ বলের ইনিংসে রয়েছে এক ডজন চার ও দু’টি ছক্কা। রোহিতের শতরানও দেখাচ্ছিল নিশ্চিত। কিন্তু কেশব মহারাজকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। ৭৩ বলে হিটম্যানের ৭৫ রানে থাকল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা।
এদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চতুর্থ ভারতীয় হিসেবে ২০হাজার রান পূর্ণ করলেন রোহিত (২৪০৬৪)। তাঁর সামনে শচীন তেন্ডুলকর (৩৪৩৫৭), বিরাট (২৭৯৬৭), দ্রাবিড়রা (২৪০৬৪)। দর্শকদের নিরাশ করেননি বিরাট কোহলিও। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের মেজাজেই বিপক্ষ বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন চেজমাস্টার। ৪৫ বলে ভিকে’র অপরাজিত ৬৫ সাজানো ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায়। এই সিরিজ ‘রো-কো’ জুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন তাঁদের অপরিহার্যতা। ড্রেসিং-রুমে বসে হাততালি দেওয়া কোচ গৌতম গম্ভীর নিশ্চয়ই হাড়ে হাড়ে তা টের পেলেন!
স্কোরবোর্ড: দক্ষিণ আফ্রিকা- ডি’কক বো প্রসিদ্ধ ১০৬, রিকেলটন ক রাহুল বো অর্শদীপ ০, বাভুমা ক কোহলি বো জাদেজা ৪৮, ব্রিটজকি এলবিডব্লু বো প্রসিদ্ধ ২৪, মার্করাম ক কোহলি বো প্রসিদ্ধ ১, ব্রেভিস ক রোহিত বো কুলদীপ ২৯, জানসেন ক জাদেজা বো কুলদীপ ১৭, বশ ক ও বো কুলদীপ ৯, মহারাজ অপরাজিত ২০, এনগিডি এলবিডব্লু বো কুলদীপ ১, বার্টম্যান বো প্রসিদ্ধ ৩, অতিরিক্ত ১২, মোট (৪৭.৫ ওভারে) ২৭০। উইকেট পতন: ১-১, ২-১১৪, ৩-১৬৮, ৪-১৭০, ৫-১৯৯, ৬-২৩৪, ৭-২৩৫, ৮-২৫২, ৯-২৫৮, ১০-২৭০। বোলিং: অর্শদীপ ৮-১-৩৬-১, হর্ষিত ৮-২-৪৪-০, প্রসিদ্ধ ৯.৫-০-৬৬-৪, জাদেজা ৯-০-৬০-১, কুলদীপ ১০-১-৪১-৪, তিলক ৩-০-২৯-০।
ভারত- যশস্বী অপরাজিত ১১৬, রোহিত ৭৫, বিরাট অপরাজিত ৬৫, অতিরিক্ত ১৫, মোট (৩৯.৫ ওভারে) ২৭১-১। উইকেট পতন: ১-১৫৫। বোলিং: জানসেন ৮-১-৩৯-০, এনগিডি ৬.৫-০-৫৬-০, মহারাজ ১০-০-৪৪-১, বার্টম্যান ৭-০-৬০-০, বশ ৬-০-৫৩-০, মার্করাম ২-০-১৭-০।
ভারত ম্যাচ জিতল ৯ উইকেটে, সিরিজ দখল ২-১ ব্যবধানে
ম্যাচের সেরা যশস্বী সিরিজের সেরা বিরাট।