Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যমরাজের ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ চিত্রগুপ্তের পুজো আরামবাগের বাতানলে, মাতলেন বাসিন্দারা

প্রতিবছরের মতো এবারও আরামবাগের বাতানল কায়স্থপাড়ায় ভাইফোঁটার দিন পুজো হল যমরাজের 'অ্যাসিস্ট্যান্ট' চিত্রগুপ্তের।

যমরাজের ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ চিত্রগুপ্তের পুজো আরামবাগের বাতানলে, মাতলেন বাসিন্দারা
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: প্রতিবছরের মতো এবারও আরামবাগের বাতানল কায়স্থপাড়ায় ভাইফোঁটার দিন পুজো হল যমরাজের 'অ্যাসিস্ট্যান্ট' চিত্রগুপ্তের। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাতানলের ভুপালচন্দ্র সরকার ১৩১৬ বঙ্গাব্দে চিত্রগুপ্তের পুজোর প্রচলন করেন। তারপর থেকেই এই পুজো হয়ে আসছে। এখানকার বোনেরা ভাইদের ফোঁটা দিতে গ্রামে আসেন। অন্যদিকে, বধূদের ভাইরাও ফোঁটা নিতে বোনেদের শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পুরোহিত চিত্রগুপ্তের কপালে ফোঁটা দেওয়ার পরই গ্রামে ভাইফোঁটা শুরু হয়। 
পরিবারের সদস্যরা বলেন, চিত্রগুপ্তকে যমরাজের আপ্ত সহায়ক বলা হয়। মর্ত্যের মানুষের পাপ পুণ্যের হিসেব রাখেন চিত্রগুপ্ত। সেইজন্য বাতানলের কায়স্থরা চিত্রগুপ্তকে নিজেদের পরিবারের আদিপুরুষ বলে মনে করেন। তাই ধুমধাম করে ১৯টি পরিবার মিলে এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন। তবে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমেছে। তাঁদের দাবি, বাংলার মধ্যে আরামবাগের বাতানলেই চিত্রগুপ্তের পুজো হয়। তাই এই পুজো দেখতে বাইরে থেকেও অনেক দর্শনার্থী আসেন। 
পুজো কমিটির সম্পাদক শিলাদিত্য সরকার বলেন, চিত্রগুপ্ত কায়স্থ সম্প্রদায়ের ছিলেন। তিনি যমরাজের হিসেব রক্ষকের কাজও করেন। তিনি আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তাই তাঁকে আমরা পূর্বপুরুষ মনে করে পুজো করে আসছি। এদিন সকাল থেকে নিয়ম মেনে পুজো হয়েছে। শুক্রবার প্রতিমার বিসর্জন হবে। তারপর প্রসাদের ব্যবস্থাও হয়েছে। বাইরে থাকা আত্মীয়রা পুজোয় শামিল হয়েছেন। কচিকাঁচাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছে। 
পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, একটি দাওয়ায় পুজো মণ্ডপ করা হয়েছে। সেখানেই দেবতা চিত্রগুপ্ত পূজিত হন। মূর্তিটি শ্যামবর্ণ। চার হাত বিশিষ্ট। চার হাতে থাকে গদা, তলোয়ার, গীতা, কলম ও দোয়াত। তাঁর বাহন মহিষ। তেলুয়ার মৃৎশিল্পী বংশ পরম্পরায় চিত্রগুপ্তের প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। জোড়া ঢাকের বাজনায় দেবতার পুজো হয়েছে। বিষ্ণুর মন্ত্রে পুজো করা হয় চিত্রগুপ্তকে। পুজোর পাশাপাশি পুরোহিত চণ্ডীপাঠও করেন। পরিবারের সকলের মঙ্গল ও সুস্থতা কামনা করা হয়। 
আরেক পরিবারের সদস্য অর্ণব সরকার বলেন, এদিন পুজোয় খিচুড়ি, আলু, বেগুন, পটল ভাজা দিয়ে চিত্রগুপ্তের প্রসাদ নিবেদন করেছেন। এই প্রসাদ পুরোহিতই রান্না করেন। চণ্ডীপাঠ, হোমও হয়। বোনেরাও এসে ভাইদের কপালে ফোঁটা দিয়েছে। আমাদের এখানে কপালে দইয়ের ফোঁটা দেওয়ার রীতি রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ