নিউ জার্সি: সালটা ২০০৭। বার্সেলোনা, ইউনিসেফ চ্যারিটি ও স্প্যানিশ সংবাদপত্র ডিয়ারো স্পোর্টসের উদ্যোগে একটি ক্যালেন্ডার প্রজেক্টের জন্য ফটোশ্যুটের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্লাস্টিকের বাথটবে এক খুদেকে স্নান করাচ্ছেন লায়োনেল মেসি।
নিউ জার্সি: সালটা ২০০৭। বার্সেলোনা, ইউনিসেফ চ্যারিটি ও স্প্যানিশ সংবাদপত্র ডিয়ারো স্পোর্টসের উদ্যোগে একটি ক্যালেন্ডার প্রজেক্টের জন্য ফটোশ্যুটের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্লাস্টিকের বাথটবে এক খুদেকে স্নান করাচ্ছেন লায়োনেল মেসি।
কাট টু ২০২৬। বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই খুদের বিরুদ্ধেই সম্মুখ সমরে লিও মেসি। প্রায় দু’দশক আগে বাঁ পায়ের জাদুকর অজান্তেই তাঁর ভবিষ্যৎ প্রতিপক্ষকে কোলে তুলে নিচ্ছেন— এটা ফুটবল বিধাতার আশ্চর্য সমাপতন নয় তো আর কী! শনিবার ফাইনালের আগে ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’ ইভেন্টের মঞ্চে এই নিয়ে মেসিকে প্রশ্নও করলেন এনএফএল তারকা টম ব্র্যাডি। সঙ্গে সঙ্গে মহাতারকার মুখে খেলে গেল হাজার ওয়াটের ঝলমলে হাসি। তারপর মাইক হাতে তুলে নিয়ে মেসির জবাব, ‘সে যখন ছোট্ট শিশু, ছবিটা তোলা হয়েছিল। আর এখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। সত্যিই অবিশ্বাস্য। ওর কেরিয়ারের শুরু থেকে ফলো করছি। কারণ লামিনে আমার হৃদয়ের ক্লাব বার্সেলোনায় খেলে। আসাধারণ প্রতিভা। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। লামিনের আরও সাফল্য কামনা করি। কারণ ও ভালো পারফরম্যান্স করলে বার্সেলোনাও সাফল্য পাবে। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে ওকে আটকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করব আমরা। যাতে এবার স্পেন কাপ না জেতে।’
সেই লা মাসিয়া থেকে যাত্রা শুরু। বার্সেলোনায় খেলা। বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি— মেসি ও লামিনে যেন এক সুতোয় গাঁথা। দু’জনেরই বিশ্বকাপে অভিষেক ১৯ বছর বয়সে। লামিনে পরেন স্পেনের ১৯ নম্বর জার্সি। আর মেসি একটা সময় ১৯ নম্বর জার্সি পরে খেলতেন বার্সেলোনায়। সংখ্যাতত্ত্বের কাকতালীয় সংযোগে বিখ্যাত সেই ফটোশ্যুটের ১৯ বছর পর একে অপরের মুখোমুখি তাঁরা। সাদৃশ্যের তালিকা এখানেই শেষ নয়। তার মধ্যে অন্যতম হল, উভয়ের বাঁ পায়েই রয়েছে শিল্প। এখন লাখ টাকার প্রশ্ন, শেষ হাসি কে হাসবেন? ৩৯-এর মেসি, নাকি ১৯ বছরের ইয়ামাল? কাপযুদ্ধের ফাইনালে উত্তরের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।